৪/৩৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৮৪ - সূর্যগ্রহণের সালাত ও কবরের প্রশ্ন
অজ্ঞান না হলে উযু না করা।
কবরের পরীক্ষা ও সূর্যগ্রহণের সালাত: ঈমানের বড় শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৮৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৮৪
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنِ امْرَأَتِهِ، فَاطِمَةَ عَنْ جَدَّتِهَا، أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا قَالَتْ أَتَيْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ، وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ تُصَلِّي فَقُلْتُ مَا لِلنَّاسِ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا نَحْوَ السَّمَاءِ وَقَالَتْ سُبْحَانَ اللَّهِ. فَقُلْتُ آيَةٌ فَأَشَارَتْ أَىْ نَعَمْ.فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلاَّنِي الْغَشْىُ، وَجَعَلْتُ أَصُبُّ فَوْقَ رَأْسِي مَاءً، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ «مَا مِنْ شَىْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَىَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ ـ لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ يُؤْتَى أَحَدُكُمْ فَيُقَالُ مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ ـ أَوِ الْمُوقِنُ لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ فَيَقُولُ هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى، فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا، فَيُقَالُ نَمْ صَالِحًا، فَقَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا، وَأَمَّا الْمُنَافِقُ ـ أَوِ الْمُرْتَابُ لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ»
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি একদা নবী (ﷺ) এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ)- এর নিকট আসলাম। তখন সূর্যে গ্রহণ লেগেছিল। দেখলাম সব মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে এবং ‘আয়িশা (রাঃ)-ও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছেন। আমি বললাম, লোকদের কী হয়েছে? তিনি তাঁর হাত আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন ‘সুবাহান্নালাহ্’! আমি বললাম, এটা কি কোন আলামত? তিনি ইঙ্গিত করে বললেনঃ ‘হাঁ’। অতঃপর আমিও সালাতে দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি আমার জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হলো এবং আমি আমার মাথায় পানি দিতে লাগলাম।অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) [মুসল্লীদের দিকে] ফিরে আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করে বললেনঃ “যেসব জিনিস আমি ইতোপূর্বে দেখিনি সেসব আমার এ স্থানে আমি দেখতে পেয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও। আর আমার নিকট ওহী পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা কাছাকাছি।”বর্ণনাকারী বলেনঃ আসমা (রাঃ) কোন্টি বলেছিলেন, আমি জানি না। তোমাদের প্রত্যেকের নিকট (ফেরেশতাগণ) উপস্থিত হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি জান?”- তারপর ‘মু’মিন,’ বা ‘মু’কিন ব্যক্তি বলবে- আসমা (রাঃ) ‘মুমিন’ বলেছিলেন না ‘মুকিন’ তা আমি জানি না- ইনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ)। তিনি আমাদের নিকট মু’জিযা ও হিদায়াত নিয়ে আগমন করেছিলেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাঁর ইত্তেবা’ করেছি।তারপর তাকে বলা হবে, নিশ্চিন্তে ঘুমাও। আমরা জানলাম যে, তুমি মু’মিন ছিলে। আর ‘মুনাফিক’ বা ‘মুরতাব’ বলবে- আমি জানি না আসমা (রাঃ) এর কোন্টি বলেছিলেন- লোকজনকে এর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে শুনেছি আর আমিও তা-ই বলেছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সময় সালাত এবং কবরের পরীক্ষার কথা এসেছে। আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে এসে দেখলেন, মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে। আয়েশা (রাঃ) আকাশের দিকে ইশারা করে বুঝালেন, সূর্যগ্রহণ হয়েছে এবং এটি একটি আলামত। আসমা (রাঃ) নিজেও সালাতে দাঁড়ালেন। পরে নবী صلى الله عليه وسلم আল্লাহর প্রশংসা করে জানালেন, তিনি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন। এরপর তিনি বললেন, কবরে মানুষকে পরীক্ষা করা হবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, সে নবী মুহাম্মদ صلى الله عليه وسلم সম্পর্কে কী জানে। মুমিন ব্যক্তি বলবে, তিনি আল্লাহর রসূল; তিনি স্পষ্ট প্রমাণ ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, আমরা সাড়া দিয়েছি, ঈমান এনেছি এবং অনুসরণ করেছি। আর সন্দেহকারী বলবে, লোকদের বলতে শুনেছিলাম, আমিও তাই বলেছি। তাই কবরের প্রশ্ন, ঈমান, হিদায়াত ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণ—এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্যগ্রহণের সময় সাহাবারা সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন।
- কবরে মানুষকে নবী صلى الله عليه وسلم সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে বলে এই বর্ণনায় এসেছে।
- মুমিনের জবাব শুধু শোনা কথা নয়; ঈমান, সাড়া দেওয়া ও অনুসরণের সঙ্গে যুক্ত।
- শুধু মানুষের কথা শুনে বলা যথেষ্ট নয়; সত্যকে বিশ্বাস ও অনুসরণ করা জরুরি।
