৩০/৬৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০০৪ - মূসা (আঃ)-এর নাজাত ও আশুরার সাওম
আশুরার দিনে সওম করা।
মূসা (আঃ)-এর নাজাতের স্মরণে আশুরার সাওম
সহীহ বুখারী : ২০০৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০০৪
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ الْمَدِينَةَ فَرَأَى الْيَهُودَ تَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى قَالَ فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মাদীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ ‘আশুরার দিনে সাওম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সাওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা (আঃ) সাওম পালন করেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে সাওম পালন করেন এবং সাওম পালনের নির্দেশ দেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আশুরার সাওমের একটি স্পষ্ট কারণ এসেছে। আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) মদীনায় এসে দেখলেন, ইহুদীরা আশুরার দিনে সাওম পালন করছে। তিনি কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, এই দিনে আল্লাহ বনী ইসরাইলকে তাদের শত্রুর হাত থেকে নাজাত দেন, তাই মূসা (আঃ) এই দিনে সাওম পালন করেন। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি তাদের চেয়ে মূসা (আঃ)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি আশুরার সাওম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। তাই ‘আশুরার রোজার কারণ’, ‘মূসা আঃ নাজাত’ এবং ‘আশুরার সাওম হাদিস’—এসব বিষয়ে এই বর্ণনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কৃতজ্ঞতার ইবাদত হিসেবে সাওমের দিকটি সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আশুরার দিনে মূসা (আঃ) ও বনী ইসরাইলের নাজাতের কথা এসেছে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মূসা (আঃ)-এর প্রতি নিজের নিকটতা উল্লেখ করেছেন।
- কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে সাওম পালন করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
