৩৪/২৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৮৩ - হালাল উপার্জন নিয়ে সতর্কতা
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ
﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ﴿“হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ গ্রহণ করো না এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর তবে সফলতা অর্জন করতে পারবে।” (আলে ইমরান: ১৩০)"
হালাল উপার্জন: মাল অর্জনে সচেতন থাকার হাদিস
সহীহ বুখারী : ২০৮৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০৮৩
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لاَ يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ، أَمِنْ حَلاَلٍ أَمْ مِنْ حَرَامٍ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল হালাল উপায়ে না হারাম উপায়ে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) এমন এক সময়ের কথা বলেছেন, যখন মানুষ মাল অর্জনের উৎস নিয়ে পরোয়া করবে না। সে দেখবে না, সম্পদ হালাল পথে এসেছে নাকি হারাম পথে। কথাটি খুব ছোট, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। একজন মানুষ কত টাকা পেল, কত লাভ করল বা কত সম্পদ জমাল—শুধু এটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। সে সম্পদ কীভাবে এল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হালাল উপার্জন মানুষের জীবনকে পরিষ্কার রাখে, আর হারাম উপার্জন মানুষকে আল্লাহর বিধান থেকে দূরে নিয়ে যায়। এই হাদিস আমাদের নিজের আয়, ব্যবসা, চাকরি, কেনাবেচা এবং অর্থ ব্যবহারের দিকে তাকাতে শেখায়। শুধু বেশি আয় নয়; আয়ের পথ ঠিক কি না, সেটাই আগে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাল অর্জনের উৎস সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার।
- হালাল ও হারামের পার্থক্যকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- সম্পদের পরিমাণের চেয়ে উপার্জনের পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।
- মুসলিমের জন্য অর্থনৈতিক জীবনেও দ্বীনের শিক্ষা মানা দরকার।
