৪/৫৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২১২ - তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সালাত
ঘুমালে উযু করা এবং দুই-একবার তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বা মাথা ঝুঁকে পড়লে উযু না করা।
সালাতে তন্দ্রা এলে কী করবেন: নবীজির সহজ নির্দেশনা
সহীহ বুখারী : ২১২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২১২
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ يُصَلِّي فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لاَ يَدْرِي لَعَلَّهُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ».
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন ঘুমের আমেজ চলে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেয়। কারণ, যে তন্দ্রাচ্ছন্ন সালাত আদায় করে সে জানে না যে, সে কি ইস্তেগফার করছে নাকি নিজেকে গালি দিচ্ছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়া। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ সালাতরত অবস্থায় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন ঘুমের আমেজ চলে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেয়। কারণ তন্দ্রার মধ্যে মানুষ বুঝতে পারে না, সে ইস্তেগফার করছে নাকি নিজের বিরুদ্ধেই খারাপ কথা বলছে। এই শিক্ষা খুব বাস্তব। ইবাদত শুধু শরীরের কাজ নয়; মনোযোগ ও বুঝে পড়াও গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি আমাদের বলে, ক্লান্তি এত বেশি হলে যে পড়া বা দোয়া ঠিক বোঝা যাচ্ছে না, তখন বিশ্রাম নিয়ে নেওয়া ভালো। তবে এখানে সালাতের সব অবস্থার বিস্তারিত বিধান নয়, শুধু তন্দ্রার অবস্থার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সালাত চালিয়ে গেলে মনোযোগ নষ্ট হতে পারে।
- ইস্তেগফার ও দোয়া বুঝে বলা গুরুত্বপূর্ণ।
- ঘুমের আমেজ কাটলে ইবাদত বেশি সচেতনভাবে করা যায়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ইবাদতে সহজ ও বাস্তব নির্দেশনা দিয়েছেন।
