৩৪/৫০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২১২৫ - তাওরাতে নবীজির গুণাবলী ও ক্ষমার শিক্ষা
বাজারে চিল্লানো ও হৈ হুল্লোড় করা অপছন্দনীয়।
তাওরাতে নবীজির গুণাবলী: কোমল আচরণ, ক্ষমা ও তাওহীদের দাওয়াত
সহীহ বুখারী : ২১২৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২১২৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، حَدَّثَنَا هِلاَلٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ لَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ ـ رضى الله عنهما ـ قُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ صِفَةِ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي التَّوْرَاةِ.قَالَ أَجَلْ، وَاللَّهِ إِنَّهُ لَمَوْصُوفٌ فِي التَّوْرَاةِ بِبَعْضِ صِفَتِهِ فِي الْقُرْآنِ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَحِرْزًا لِلأُمِّيِّينَ، أَنْتَ عَبْدِي وَرَسُولِي سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكِّلَ، لَيْسَ بِفَظٍّ وَلاَ غَلِيظٍ وَلاَ سَخَّابٍ فِي الأَسْوَاقِ، وَلاَ يَدْفَعُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ، وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللَّهُ حَتَّى يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ. وَيَفْتَحُ بِهَا أَعْيُنًا عُمْيًا، وَآذَانًا صُمًّا، وَقُلُوبًا غُلْفًا.تَابَعَهُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ هِلاَلٍ. وَقَالَ سَعِيدٌ عَنْ هِلاَلٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ سَلاَمٍ. غُلْفٌ كُلُّ شَىْءٍ فِي غِلاَفٍ، سَيْفٌ أَغْلَفُ، وَقَوْسٌ غَلْفَاءُ، وَرَجُلٌ أَغْلَفُ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَخْتُونًا.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ)-কে বললাম, আপনি আমাদের কাছে তাওরাতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর গুণাবলী বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা। আল্লাহর কসম! কোরআনে বর্ণিত তাঁর কিছু গুণাবলী তাওরাতেও উল্লেখ করা হয়েছেঃ “হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি” এবং উম্মীদের রক্ষক হিসাবেও। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহর উপর ভরসাকারী) রেখেছি।তিনি বাজারে কঠোর রূঢ় ও নির্দয় স্বভাবের ছিলেন না। তিনি মন্দর প্রতিশোধ মন্দ দ্বারা নিতেন না বরং মাফ করে দিতেন, ক্ষমা করে দিতেন। আল্লাহ তা’আলা তাঁকে ততক্ষণ মৃত্যু দিবেন না যতক্ষণ না তাঁর দ্বারা বিকৃত মিল্লাতকে ঠিক পথে আনেন অর্থাৎ যতক্ষণ না তারা (আরববাসীরা) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর ঘোষণা দিবে। আর এ কালিমার মাধ্যমে অন্ধ-চক্ষু, বধির-কর্ণ ও আচ্ছাদিত হৃদয় খুলে যাবে।আবদুল ‘আযীয ইবনু আবূ সালামাহ (রহঃ) হিলাল (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় ফুলাইহ (রহঃ)- এর অনুসরণ করেছেন। সা’ঈদ (রহঃ) ......... ইবনু সালাম (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২১২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবন আমর রা.-এর মাধ্যমে তাওরাতে বর্ণিত নবী صلى الله عليه وسلم-এর কিছু গুণাবলী উল্লেখ হয়েছে। তিনি জানান, কুরআনে বর্ণিত কিছু গুণ তাওরাতেও ছিল: নবী صلى الله عليه وسلم সাক্ষী, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং উম্মীদের রক্ষক। তাঁকে আল্লাহর বান্দা ও রসূল বলা হয়েছে এবং ‘মুতাওয়াক্কিল’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহর উপর ভরসাকারী। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, তিনি কঠোর, রূঢ় বা বাজারে উচ্চস্বরে ঝগড়াকারী ছিলেন না। তিনি মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে নিতেন না; বরং মাফ করতেন ও ক্ষমা করতেন। এই বর্ণনায় নবীজির চরিত্র, তাওহীদের দাওয়াত এবং মানুষের হৃদয় খুলে দেওয়ার বার্তা ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم কোমল, ক্ষমাশীল ও আল্লাহর উপর ভরসাকারী ছিলেন।
- তিনি মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে দিতেন না, বরং মাফ করতেন।
- তাওহীদের দাওয়াত নবী صلى الله عليه وسلم-এর মিশনের মূল অংশ।
- বাজার বা জনসমাগমে কঠোর ও রূঢ় আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিত।
