৩৪/১১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২২৩৫ - সাফিয়া (রাঃ)-এর ওয়ালিমা ও সম্মান
ইসতিবরা অর্থাৎ জরায়ু গর্ভমুক্ত কি-না তা অবগত হওয়ার আগে দাসীকে নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া যায় কিনা।
وَلَمْ يَرَ الْحَسَنُ بَأْسًا أَنْ يُقَبِّلَهَا أَوْ يُبَاشِرَهَا وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا إِذَا وَهَبَتْ الْوَلِيدَةُ الَّتِي تُوطَأُ أَوْ بِيعَتْ أَوْ عُتِقَتْ فَلْيَسْتَبْرِأْ رَحِمَهَا بِحَيْضَةٍ وَلَا تَسْتَبْرِأُ الْعَذْرَاءُ وَقَالَ عَطَاءٌ لَا بَأْسَ أَنْ يُصِيبَ مِنْ جَارِيَتِهِ الْحَامِلِ مَا دُونَ الْفَرْجِ وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ ﴿হাসান (বাসরী) (রহঃ) তাকে চুম্বন করা বা তার সাথে মেলামেশা করায় কোনো দোষ মনে করেন না। ইবন ‘উমার (রাঃ) বলেন, সহবাসকৃত দাসীকে দান বা বিক্রি বা আযাদ করলে এক হায়েয পর্যন্ত তার জরায়ু মুক্ত কি-না দেখতে হবে। কুমারীর বেলায় ইসতিবরার প্রয়োজন নেই। ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, (অপর কর্তৃক) গর্ভবতী নিজ দাসীকে যৌনাঙ্গ ব্যতীত ভোগ করতে পারবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত বাঁদী ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না .......”। (মুমিনূন: ৬)"
সাফিয়া (রাঃ)-এর ওয়ালিমা: নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর আচরণের সুন্দর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২২৩৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২২৩৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ خَيْبَرَ، فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْحِصْنَ ذُكِرَ لَهُ جَمَالُ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَىِّ بْنِ أَخْطَبَ، وَقَدْ قُتِلَ زَوْجُهَا، وَكَانَتْ عَرُوسًا، فَاصْطَفَاهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِنَفْسِهِ فَخَرَجَ بِهَا، حَتَّى بَلَغْنَا سَدَّ الرَّوْحَاءِ حَلَّتْ، فَبَنَى بِهَا، ثُمَّ صَنَعَ حَيْسًا فِي نِطَعٍ صَغِيرٍ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «آذِنْ مَنْ حَوْلَكَ».فَكَانَتْ تِلْكَ وَلِيمَةَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَلَى صَفِيَّةَ، ثُمَّ خَرَجْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ، قَالَ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يُحَوِّي لَهَا وَرَاءَهُ بِعَبَاءَةٍ، ثُمَّ يَجْلِسُ عِنْدَ بَعِيرِهِ فَيَضَعُ رُكْبَتَهُ، فَتَضَعُ صَفِيَّةُ رِجْلَهَا عَلَى رُكْبَتِهِ، حَتَّى تَرْكَبَ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) খায়বার গমন করেন। যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দুর্গের বিজয় দান করেন, তখন তাঁর সামনে সাফিয়্যাহ (রাঃ) বিনতে হুয়ায়্যি ইবনু আখতাব এর সৌন্দর্যের আলোচনা করা হয়। তাঁর স্বামী নিহত হয় এবং তিনি তখন ছিলেন নব-বিবাহিতা। অবশেষে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁকে নিজের জন্য গ্রহণ করে নেন। তিনি তাঁকে নিয়ে রওনা হন। যখন আমরা সাদ্দা রাওহা নামক স্থানে উপনীত হলাম, তখন সাফিয়্যাহ (রাঃ) পবিত্র হলেন! তখন নবী (ﷺ) তাঁর সঙ্গে মিলিত হন।তারপর চামড়ার ছোট দস্তরখানে হায়েস (খেজুরের ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরি করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমরা আশেপাশের লোকদের উপস্থিত হওয়ার খবর দিয়ে দাও। এই ছিল সাফিয়্যাহ (রাঃ)-এর বিবাহে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কর্তৃক ওয়ালিমাহ। এরপর আমরা মদীনার উদ্দেশে রওনা হই। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে দেখতে পেলাম যে, তাঁকে নিজের আবা’ দিয়ে ঘেরাও করে দিচ্ছেন। তারপর তিনি তাঁর উটের পাশে বসে হাঁটু সোজা করে রাখলেন, পরে সাফিয়্যাহ (রাঃ) তাঁর হাঁটুর উপর পা দিয়ে ভর করে আরোহণ করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২২৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) খায়বারের পর সাফিয়া বিনতে হুয়াইয়ি (রাঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করেন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে নিজের জন্য গ্রহণ করেন। পথে সাদ্দুর রাওহা এলাকায় পৌঁছে সাফিয়া (রাঃ) পবিত্র হলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁর সঙ্গে মিলিত হন এবং পরে হায়েস তৈরি করে আশেপাশের লোকদের ডাকতে বলেন। এটিই ছিল সাফিয়া (রাঃ)-এর বিবাহে ওয়ালিমা। এরপর মদীনা যাওয়ার পথে আনাস (রাঃ) দেখেন, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে আবা দিয়ে আড়াল করেন এবং উটে উঠতে নিজের হাঁটু ভর হিসেবে দেন। সাফিয়া রাঃ ওয়ালিমা হাদিসে বিবাহ, সরল আপ্যায়ন এবং স্ত্রীকে সম্মান করার কোমল আচরণ দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাহে ওয়ালিমা করা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলে ছিল।
- ওয়ালিমা সরল খাবার দিয়েও হতে পারে—হাদিসে হায়েসের কথা এসেছে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সাফিয়া (রাঃ)-কে আড়াল ও সহায়তা দিয়ে সম্মান করেছেন।
