৪৪/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪১৯ - কুরআন সাত হরফে নাজিল
বিবাদমানদের পরস্পরের আলাপ-আলোচনা সম্পর্কে।
কুরআন সাত হরফে নাজিল: ভিন্ন পাঠে ঝগড়া নয়
সহীহ বুখারী : ২৪১৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪১৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَؤُهَا، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَقْرَأَنِيهَا، وَكِدْتُ أَنْ أَعْجَلَ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَمْهَلْتُهُ حَتَّى انْصَرَفَ، ثُمَّ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَجِئْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ إِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَأْتَنِيهَا، فَقَالَ لِي " أَرْسِلْهُ ". ثُمَّ قَالَ لَهُ " اقْرَأْ ". فَقَرَأَ. قَالَ " هَكَذَا أُنْزِلَتْ ". ثُمَّ قَالَ لِي " اقْرَأْ ". فَقَرَأْتُ فَقَالَ " هَكَذَا أُنْزِلَتْ. إِنَّ الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مِنْهُ مَا تَيَسَّرَ ".
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযামকে সূরা ফুরকান আমি যেভাবে পড়ি তা হতে ভিন্ন পড়তে শুনলাম। আর যেভাবে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে এ সূরা পড়িয়েছেন। আমি তাড়াতাড়ি তাঁকে বাধা দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তাঁর সালাত শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। এরপর তাঁর গলায় চাদর পেঁচিয়ে তাঁকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে এলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে যা পড়তে শিখিয়েছেন, আমি তাঁকে তা হতে ভিন্ন পড়তে শুনেছি।নবী (ﷺ) আমাকে বললেন তাঁকে ছেড়ে দিতে। তারপর তাঁকে পড়তে বললেন, সে পড়ল। তিনি [নবী (ﷺ)] বললেন, এরূপ নাযিল হয়েছে। এরপর আমাকে পড়তে বললেন, আমিও তখন পড়লাম। আর তিনি [নবী (ﷺ)] বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। কোরআন সাত হরফে নাযিল হয়েছে। তাই যেরূপ সহজ হয় তোমরা সেরূপেই তা পড়।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ) হিশাম ইবন হাকীমকে সূরা ফুরকান এমনভাবে পড়তে শুনলেন, যা তাঁর শেখা পাঠের চেয়ে ভিন্ন ছিল। তিনি দ্রুত বাধা দিতে চাইছিলেন, কিন্তু সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এরপর তাকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে নিয়ে যান। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন, তারপর হিশামকে পড়তে বলেন। তিনি পড়লে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এভাবেই নাজিল হয়েছে। এরপর উমর (রাঃ)-কে পড়তে বলেন। তিনিও পড়েন, তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এভাবেই নাজিল হয়েছে। তারপর তিনি বলেন, কুরআন সাত হরফে নাজিল হয়েছে, তাই যা সহজ হয় তা পড়। এখানে কুরআন পাঠে সহনশীলতা ও জ্ঞানভিত্তিক আচরণের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের স্বীকৃত ভিন্ন পাঠ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ঝগড়া করা উচিত নয়।
- সন্দেহ হলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর মতো জ্ঞানী কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পেশ করতে হয়।
- কুরআন সাত হরফে নাজিল হয়েছে বলে হাদিসে স্পষ্ট এসেছে।
- উমর (রাঃ) সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন, এতে ধৈর্যের শিক্ষা আছে।
