৪৪/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪২১ - সন্তানের নসব ও হকদারের বিচার
মৃত ব্যক্তির ওসিয়তের দাবী।
সন্তানের নসব নির্ধারণ: হকদার কে—সহিহ বুখারী 2421
সহীহ বুখারী : ২৪২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪২১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ عَبْدَ بْنَ زَمْعَةَ، وَسَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، اخْتَصَمَا إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فِي ابْنِ أَمَةِ زَمْعَةَ فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْصَانِي أَخِي إِذَا قَدِمْتُ أَنْ أَنْظُرَ ابْنَ أَمَةِ زَمْعَةَ فَأَقْبِضَهُ، فَإِنَّهُ ابْنِي. وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ أَخِي وَابْنُ أَمَةِ أَبِي، وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِي. فَرَأَى النَّبِيُّ ﷺ شَبَهًا بَيِّنًا فَقَالَ «هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ، الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ، وَاحْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ».
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আব্দ ইবনু যাম‘আ ও সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) যাম‘আর দাসীর পুত্র সংক্রান্ত বিবাদ নবী (ﷺ) এর কাছে পেশ করলেন। সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাই আমাকে ওসিয়ত করে গেছেন যে, আমি (মক্কায়) পৌঁছলে যেন যাম‘আর দাসীর পুত্রের প্রতি লক্ষ্য রাখি, দেখতে পেলে যেন তাকে হস্তগত করে নেই। কেননা, সে তার পুত্র। আব্দ ইবনু যাম‘আ (রাঃ) বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। আমার পিতার ঔরসে তার জন্ম। নবী (ﷺ) উতবার সাথে তার চেহারা-সুরতের স্পষ্ট মিল দেখতে পেলেন, তখন তিনি [নবী (ﷺ)] বললেন, হে আব্দ ইবনু যাম‘আ! তুমিই তার হকদার। সন্তান যার ঔরসে জন্ম গ্রহণ করে তারই হয়। হে সাওদা! তুমি তার হতে পর্দা কর।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদ ইবন যামআ ও সাদ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর মধ্যে যামআর দাসীর পুত্রকে নিয়ে বিবাদ দেখা যায়। সাদ (রাঃ) তাঁর ভাইয়ের ওসিয়তের কথা বলেন, আর আবদ ইবন যামআ (রাঃ) বলেন, সে তাঁর পিতার দাসীর পুত্র এবং তাঁর পিতার ঔরসে জন্মেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) চেহারার স্পষ্ট মিল দেখলেও সিদ্ধান্ত দেন, সন্তান যার ঔরসে জন্ম গ্রহণ করে তারই হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দাবি বা বাহ্যিক মিল থাকলেও বিচার হবে স্থির নিয়মের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে তিনি সাওদা (রাঃ)-কে তার থেকে পর্দা করতে বলেন। তাই সন্তানের নসব, হকদার নির্ধারণ এবং পর্দার বিষয়ে এই হাদিস খুব গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানের নসব নির্ধারণে শুধু দাবি নয়, স্থির নিয়মকে গুরুত্ব দিতে হয়।
- বিবাদ হলে নিজের ধারণার বদলে ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
- চেহারার মিল দেখা গেলেও বিচার সবসময় সেই মিলের উপর দাঁড়ায় না।
- পর্দার বিষয়ে সতর্কতা বজায় রাখা নবীজির নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়।
