৪৫/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৩৪ - মক্কা বিজয়ের ভাষণ ও হারামের বিধান
মক্কাবাসীদের পড়ে থাকা জিনিসের ঘোষণা কিভাবে দেয়া হবে।
وَقَالَ طَاوُسٌ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَلْتَقِطُ لُقَطَتَهَا إِلَّا مَنْ عَرَّفَهَا وَقَالَ خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا تُلْتَقَطُ لُقَطَتُهَا إِلَّا لِمُعَرِّفٍতাউস (রহঃ), ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, মক্কায় পড়ে থাকা জিনিস কেবল সেই ব্যক্তি উঠাবে, যে তার ঘোষণা দিবে। খালিদ (রহঃ), ইকরিমা (রহঃ)-এর মাধ্যমে ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মক্কায় পড়ে থাকা জিনিস কেবল সেই ব্যক্তি উঠাবে, যে তার ঘোষণা দিবে।"
মক্কা বিজয়ের ভাষণ: হারামের সম্মান ও আবূ শাহকে লিখে দেওয়া
সহীহ বুখারী : ২৪৩৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪৩৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ ﷺ مَكَّةَ قَامَ فِي النَّاسِ، فَحَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ، وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ، فَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي، وَإِنَّهَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لأَحَدٍ بَعْدِي، فَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا وَلاَ يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلاَ تَحِلُّ سَاقِطَتُهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ، وَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهْوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ، إِمَّا أَنْ يُفْدَى، وَإِمَّا أَنْ يُقِيدَ». فَقَالَ الْعَبَّاسُ إِلاَّ الإِذْخِرَ، فَإِنَّا نَجْعَلُهُ لِقُبُورِنَا وَبُيُوتِنَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِلاَّ الإِذْخِرَ». فَقَامَ أَبُو شَاهٍ ـ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ ـ فَقَالَ اكْتُبُوا لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «اكْتُبُوا لأَبِي شَاهٍ». قُلْتُ لِلأَوْزَاعِيِّ مَا قَوْلُهُ اكْتُبُوا لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هَذِهِ الْخُطْبَةَ الَّتِي سَمِعَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁর রাসূল (ﷺ) -কে মক্কা বিজয় দান করলেন, তখন তিনি (ﷺ) লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হাম্দ ও সানা (প্রশংসা) বর্ণনা করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহ তা‘আলা মক্কায় (আবরাহার) হস্তি বাহিনীকে প্রবেশ করতে দেননি এবং তিনি তাঁর রাসূল ও মু’মিন বান্দাদেরকে মক্কার উপর আধিপত্য দান করেছেন।আমার আগে অন্য কারোর জন্য মক্কায় যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না, তবে আমার পক্ষে দিনের সামান্য সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল, আর তা আমার পরেও কারোর জন্য বৈধ হবে না। কাজেই এখানকার শিকার তাড়ানো যাবে না, এখানকার গাছ কাটা ও উপড়ানো যাবে না, ঘোষণাকারী ব্যক্তি ব্যতীত এখানকার পড়ে থাকা জিনিস তুলে নেয়া যাবে না। যার কোন লোক এখানে নিহত হয় তবে দু’টির মধ্যে তার কাছে যা ভাল বলে বিবেচিত হয়, তা গ্রহণ করবে। ফিদ্ইয়া গ্রহণ অথবা কিসাস।‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইযখিরের অনুমতি দিন। কেননা এগুলো আমাদের কবরের উপর এবং ঘরের কাজে ব্যবহার করে থাকি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইযখির ব্যতীত (অর্থাৎ তা কাটা ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হল)। তখন ইয়ামানবাসী আবূ শাহ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। (ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম বলেন) আমি আওযায়ীকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন তাঁর এ উক্তির অর্থ কী? তিনি বলেন, এ ভাষণ যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছ হতে তিনি শুনেছেন তা লিখে দিন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মক্কা বিজয়ের পর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ভাষণের কথা এসেছে। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করে বলেন, আল্লাহ মক্কা থেকে হস্তী বাহিনীকে রুখেছেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনদের মক্কার উপর আধিপত্য দিয়েছেন। এরপর তিনি জানান, তাঁর আগে কারো জন্য মক্কায় যুদ্ধ বৈধ ছিল না, তাঁর জন্য দিনের সামান্য সময় বৈধ করা হয়েছিল, আর তাঁর পর কারো জন্য বৈধ হবে না। তিনি শিকার তাড়ানো, গাছ কাটা, পড়ে থাকা জিনিস নেওয়া—এসব বিষয়ে নিষেধ করেন। তবে ঘোষণা করার জন্য পড়ে থাকা জিনিস নেওয়া যাবে। নিহত ব্যক্তির বিষয়ে ফিদিয়া বা কিসাসের কথাও এসেছে। আব্বাস (রাঃ)-এর অনুরোধে ইযখিরের অনুমতি দেওয়া হয়। আবূ শাহ (রাঃ) ভাষণ লিখে দিতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তা লিখে দিতে বলেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মক্কার হারাম এলাকার সম্মান রক্ষা করা জরুরি।
- শিকার, গাছ ও পড়ে থাকা জিনিসের বিষয়ে আলাদা বিধান এসেছে।
- প্রয়োজনের কারণে ইযখির ঘাসের ব্যতিক্রম অনুমোদিত হয়েছে।
- উপকারী কথা লিখে রাখা বৈধ হওয়ার একটি দিক এই হাদিসে দেখা যায়।
