৪৬/১০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৪৯ - অন্যের হক মাফ করিয়ে নেওয়ার জরুরি শিক্ষা
কেউ কারো উপর জুলুম করে এবং মাযলুম ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করে দেয় এর পরও সে অত্যাচারের কথা প্রকাশ করতে পারবে কি?
অন্যের হক মাফ করিয়ে নেওয়া: কিয়ামতের আগে সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ২৪৪৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪৪৯
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لأَحَدٍ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَىْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ، قَبْلَ أَنْ لاَ يَكُونَ دِينَارٌ وَلاَ دِرْهَمٌ، إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلَمَتِهِ، وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ». قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ إِنَّمَا سُمِّيَ الْمَقْبُرِيَّ لأَنَّهُ كَانَ نَزَلَ نَاحِيَةَ الْمَقَابِرِ. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَسَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ هُوَ مَوْلَى بَنِي لَيْثٍ، وَهُوَ سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، وَاسْمُ أَبِي سَعِيدٍ كَيْسَانُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোন বিষয়ে যুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ হতে মাফ করিয়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোন দীনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোন সৎকর্ম থাকলে তার যুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট থেকে নেয়া হবে আর তার কোন সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ হতে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে।আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, ইসমাঈল ইবনু উয়াইস (রহঃ) বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী (রহঃ) কবরস্থানের পার্শ্বে অবস্থান করতেন বলে আল-মাকবুরী বলা হত। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) এও বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী হলেন বনূ লাইসের আযাদকৃত গোলাম। ইনি হলেন সাঈদ ইবনু আবূ সাঈদ। আর আবূ সাঈদের নাম হলো কায়সান।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যার কাছে কারও সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুমের দায় আছে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নেয়। কারণ এমন দিন আসবে, যেদিন দিনার বা দিরহাম থাকবে না। তখন সৎকর্ম থাকলে জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা নেওয়া হবে। আর সৎকর্ম না থাকলে যার উপর জুলুম করা হয়েছে তার গুনাহ থেকে নিয়ে জালিমের উপর চাপানো হবে। এই হাদিস অন্যের হক, সম্মান, ক্ষমা চাওয়া এবং দুনিয়াতেই সম্পর্ক ঠিক করার গুরুত্ব শেখায়। শুধু সম্পদের জুলুম নয়, সম্ভ্রমহানির কথাও স্পষ্টভাবে এসেছে। তাই কথা, আচরণ ও লেনদেনে সাবধান হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়াতেই মানুষের হক মাফ করিয়ে নেওয়া উচিত।
- সম্ভ্রমহানি বা অপমানও জুলুমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- কিয়ামতের দিন অর্থ দিয়ে অন্যের হক শোধ করা যাবে না।
- সৎকর্ম নষ্ট হওয়ার ভয় মানুষকে জুলুম থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে।
