৪৮/৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫১৬ - মিথ্যা হলফ ও অন্যের হক

বন্ধকদাতা ও বন্ধক গ্রহীতার মাঝে বিরোধ দেখা দিলে বা অনুরূপ কোন কিছু হলে বাদীর দায়িত্ব সাক্ষী পেশ করা আর বিবাদীর দায়িত্ব শপথ করা।

মিথ্যা হলফে সম্পদ নেওয়া ও বিচারনীতির শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫১৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ يَسْتَحِقُّ بِهَا مَالاً وَهُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لَقِيَ اللهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ فَأَنْزَلَ اللهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً فَقَرَأَ إِلَى عَذَابٌ أَلِيمٌ} ثُمَّ إِنَّ الأَشْعَثَ بْنَ قَيْسٍ خَرَجَ إِلَيْنَا فَقَالَ مَا يُحَدِّثُكُمْ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمٰنِ قَالَ فَحَدَّثْنَاهُ قَالَ فَقَالَ صَدَقَ لَفِيَّ وَاللهِ أُنْزِلَتْ كَانَتْ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ خُصُومَةٌ فِي بِئْرٍ فَاخْتَصَمْنَا إِلَى رَسُولِ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ شَاهِدَاكَ أَوْ يَمِينُهُ قُلْتُ إِنَّهُ إِذًا يَحْلِفُ وَلاَ يُبَالِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ يَسْتَحِقُّ بِهَا مَالاً وَهُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لَقِيَ اللهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ فَأَنْزَلَ اللهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ ثُمَّ اقْتَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً﴿ إِلَى ﴾وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ﴿

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মিথ্যা কসম করে যে ব্যক্তি অর্থ-সম্পদ হস্তগত করে সে (কেয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তারপর আল্লাহ তা‘আলা [নবী (ﷺ)-এর] উক্ত বাণী সমর্থন করে আয়াত নাযিল করলেন : “নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, তারা পরকালে কোন অংশ পাবে না আর কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের সাথে কথাও বলবেন না এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিপাতও করবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে”- (আল ইমরান ৭৭)।(রাবী বলেন) পরে আশ‘আস ইবনু কায়স (রাঃ) আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আবূ আবদুর রহমান (ইবনু মাসঊদ) তোমাদের কী হাদীস শুনালেন (রাবী বলেন), আমরা তাঁকে হাদীসটি শুনালে তিনি বললেন, তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল হয়েছিল। কুয়া (এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক লোকের ঝগড়া চলছিল।পরে আমরা রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর খিদমতে বিরোধটি উত্থাপন করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) (আমাকে) বললেন, তুমি দু’জন সাক্ষী উপস্থিত করবে, নতুবা সে হলফ করবে। আমি বললাম, তবে তো সে নির্দ্বিধায় হলফ করে বসবে। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে (কেয়ামতের দিন) আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তিনি (আশ‘আস) বলেন, তখন আল্লাহ তা‘আলা এর সমর্থনে আয়াত নাযিল করলেন।অতঃপর তিনি (আশ‘আস) এই আয়াত : {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً} إِلَى {وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} তিলাওয়াত করলেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫১৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মিথ্যা হলফ করে অন্যের সম্পদ দখলের বিষয়ে কঠিন সতর্কতা এসেছে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে অর্থ-সম্পদ নিয়ে নেয়, সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। এরপর আলে ইমরানের আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। আশ‘আস ইবনু কায়স (রাঃ) বলেন, এই আয়াত তাঁর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কুয়া নিয়ে তাঁর এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়া ছিল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, দুইজন সাক্ষী আনবে, নতুবা সে কসম করবে। আশ‘আস (রাঃ) বলেন, সে তো নির্দ্বিধায় কসম করবে। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মিথ্যা হলফের কঠিন পরিণতি জানিয়ে দেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মিথ্যা হলফ করে সম্পদ নেওয়া আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ।
  • বিরোধে সাক্ষী পেশ করা বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • কসমকে অন্যের হক দখলের উপায় বানানো উচিত নয়।
  • সম্পদের ব্যাপারে আল্লাহভীতি ও সত্যবাদিতা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন