৪৯/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫২১ - শরীকি ক্রীতদাস মুক্তির ন্যায্য বিধান
দুই ব্যক্তির মালিকানাভুক্ত ক্রীতদাস বা কয়েকজন অংশীদারের দাসী আযাদ করা।
শরীকি ক্রীতদাস মুক্তির বিধান: ন্যায্য মূল্য ও দায়িত্বের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৫২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫২১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَنْ أَعْتَقَ عَبْدًا بَيْنَ اثْنَيْنِ، فَإِنْ كَانَ مُوسِرًا قُوِّمَ عَلَيْهِ ثُمَّ يُعْتَقُ».
সালিমের পিতা [ইবনু ‘উমর (রাঃ)] হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুজনের মালিকানাধীন ক্রীতদাস মুক্ত করে, সে সচ্ছল হলে প্রথমে ক্রীতদাসের মূল্য নির্ধারণ করা হবে, তারপর মুক্ত করবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শরীকি ক্রীতদাস মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান এসেছে। কোনো ক্রীতদাস যদি দুজনের মালিকানায় থাকে এবং একজন মালিক তাকে মুক্ত করতে চায়, তবে বিষয়টি শুধু আবেগের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মুক্তকারী ব্যক্তি যদি স্বচ্ছল হয়, তাহলে আগে ক্রীতদাসের মূল্য নির্ধারণ করা হবে, তারপর তাকে মুক্ত করা হবে। এতে বোঝা যায়, ইসলাম দাসমুক্তিকে উৎসাহ দিয়েছে, কিন্তু অন্য অংশীদারের অধিকারও নষ্ট করতে বলেনি। এখানে মূল শিক্ষা হলো ন্যায্যতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের মুক্তির পথকে সঠিক নিয়মে এগিয়ে নেওয়া। ক্রীতদাস মুক্তির ফজিলত যেমন আছে, তেমনি লেনদেন ও অংশীদারির হক আদায় করাও জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীকি সম্পদে এক পক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে অন্য পক্ষের হক বিবেচনা করতে হয়।
- ক্রীতদাস মুক্তির ক্ষেত্রে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের কথা হাদিসে এসেছে।
- স্বচ্ছল ব্যক্তির ওপর মুক্তির কাজ সম্পূর্ণ করার আর্থিক দায়িত্ব আসে।
- ইসলামে দয়া ও ন্যায়—দুটিই একসাথে গুরুত্ব পায়।
