৪৯/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫২৩ - শরীকি মালিকানায় দাসমুক্তির দায়িত্ব
দুই ব্যক্তির মালিকানাভুক্ত ক্রীতদাস বা কয়েকজন অংশীদারের দাসী আযাদ করা।
শরীকি ক্রীতদাস মুক্তি: সামর্থ্য থাকলে পুরো মুক্তির দায়
সহীহ বুখারী : ২৫২৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫২৩
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي مَمْلُوكٍ فَعَلَيْهِ عِتْقُهُ كُلِّهِ، إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَهُ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ يُقَوَّمُ عَلَيْهِ قِيمَةَ عَدْلٍ، فَأُعْتِقَ مِنْهُ مَا أَعْتَقَ».
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কেউ কোন (শরীকী) ক্রীতদাস হতে নিজের অংশ মুক্ত করলে ঐ ক্রীতদাসের সম্পূর্ণটা মুক্ত করা তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়বে, যদি তার কাছে সেই ক্রীতদাসের মূল্য সমপরিমাণ অর্থ থাকে। আর যদি তার কাছে কোন অর্থ না থাকে তাহলে তার দায়িত্ব হবে আযাদকৃত (গোলামের) ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা। এতে আযাদকারীর পক্ষ হতে ততটুকুই মুক্ত হবে, যতটুকু সে মুক্ত করেছে।
মুসাদ্দাদ (রহঃ) বিশর ইবনু মুফাযযাল (রহঃ) সূত্রে ‘উবায়দুল্লাহ (রহঃ) থেকে উক্ত হাদীসটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত আছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ যদি শরীকি ক্রীতদাসের মধ্যে নিজের অংশ মুক্ত করে, তাহলে তার জন্য পুরো ক্রীতদাসকে মুক্ত করা জরুরি হয়ে যায়—যদি তার কাছে ক্রীতদাসের পূর্ণ মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকে। আর যদি অর্থ না থাকে, তাহলে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তার পক্ষ থেকে যতটুকু সে মুক্ত করেছে, ততটুকুই মুক্ত গণ্য হবে। এখানে দাসমুক্তি, সামর্থ্য এবং ন্যায্যতার বিষয় একসাথে এসেছে। ইসলাম মানুষকে মুক্তির দিকে আহ্বান করেছে, কিন্তু সেই কাজ যেন অন্যের অধিকার নষ্ট করে না হয়, সেটাও স্পষ্ট করেছে। এই হাদিস অংশীদারির বিষয়ে সতর্কতা, আর্থিক দায়িত্ব এবং ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্তের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীকি ক্রীতদাস মুক্ত করলে সামর্থ্য থাকলে পূর্ণ মুক্তির দায় আসে।
- ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ছাড়া অন্য অংশীদারের অধিকার পূরণ হয় না।
- সামর্থ্য না থাকলে মুক্তি নিজের অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- ভালো কাজের মধ্যেও আর্থিক ন্যায়বিচার বজায় রাখা দরকার।
