৫০/৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৬৪ - বারীরা (রাঃ)-এর মুক্তি ও ওয়ালার বিধান

মুকাতাবের সমর্থন সাপেক্ষে তাকে বিক্রয় করা।

وَقَالَتْ عَائِشَةُ هُوَ عَبْدٌ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ دِرْهَمٌ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ هُوَ عَبْدٌ إِنْ عَاشَ وَإِنْ مَاتَ وَإِنْ جَنَى مَا بَقِيَ عَلَيْهِ شَيْءٌ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, ধার্যকৃত অর্থের কিছু অংশও বাকী থাকবে। মুকাতাব ক্রীতদাসরূপেই গণ্য হবে। যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলেন, তার যিম্মায় এক দিরহাম অবশিষ্ট থাকলেও (ক্রীতদাস বলে গণ্য হবে।) ইবন ‘উমার (রাঃ) বলেন, যতক্ষণ তার যিম্মায় কিছু অংশও অবশিষ্ট থাকবে মুকাতাব ক্রীতদাসরূপেই গণ্য হবে; সে বেঁচে থাকুক বা মারা যাক কিংবা কোনো ধরনের অপরাধ করুক।"

বারীরা (রাঃ)-এর মুক্তি: ওয়ালা মুক্তিদাতার

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ بَرِيرَةَ، جَاءَتْ تَسْتَعِينُ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ ـ رضى الله عنها ـ فَقَالَتْ لَهَا إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَصُبَّ لَهُمْ ثَمَنَكِ صَبَّةً وَاحِدَةً فَأُعْتِقَكِ فَعَلْتُ. فَذَكَرَتْ بَرِيرَةُ ذَلِكَ لأَهْلِهَا، فَقَالُوا لاَ. إِلاَّ أَنْ يَكُونَ وَلاَؤُكِ لَنَا. قَالَ مَالِكٌ قَالَ يَحْيَى فَزَعَمَتْ عَمْرَةُ أَنَّ عَائِشَةَ ذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا، فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ».

আমরাহ্ বিন্‌ত আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

বারীরা (রাঃ) একবার উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে সাহায্য চাইতে আসলেন। তখন তিনি বললেন, তোমার মালিক পক্ষ চাইলে আমি তাদের এক সাথেই তোমার মূল্য দিয়ে দিব এবং তোমাকে মুক্ত করে দিব। বারীরা (রাঃ) মালিক পক্ষকে তা বললেন, কিন্তু জবাবে তারা বলল, তোমার ওয়ালা আমাদের থাকবে; এছাড়া আমরা সম্মত নই। (রাবী) মালিক (রহঃ) বলেন, ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, আম্‌রা (রহঃ) ধারণা করেন যে, ‘আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-এর কাছে তা উত্থাপন করেছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছিলেন, তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও। কেননা, ওয়ালা তারই হবে, যে মুক্ত করে।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় বারীরা (রাঃ) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে সাহায্য চাইতে আসেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, মালিকপক্ষ চাইলে তিনি একসাথে মূল্য পরিশোধ করে তাকে মুক্ত করে দেবেন। বারীরা (রাঃ) এই কথা মালিকদের বললে তারা শুধু একটি শর্তে রাজি হতে চাইল—ওয়ালা তাদের থাকবে। পরে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গেলে তিনি বললেন, তাকে কিনে মুক্ত করে দাও; কারণ ওয়ালা তারই, যে মুক্ত করে। এই হাদিসে একই মূলনীতি আবার এসেছে। মানুষের শর্ত থাকলেও, মুক্তির আসল অধিকার কে পাবে তা আল্লাহর বিধানেই নির্ধারিত। তাই এই হাদিস ওয়ালা অধিকার ও দাস মুক্তির বিধান বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুক্তির কাজে অর্থ দেওয়া একটি কার্যকর সহায়তা হতে পারে।
  • ওয়ালা পাওয়ার অধিকার মুক্তিদাতার সঙ্গে যুক্ত।
  • মালিকপক্ষের দাবি শরীয়তের নিয়ম বদলাতে পারে না।
  • বিতর্ক হলে নবীজির নির্দেশই চূড়ান্ত মানদণ্ড।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন