৫২/২৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৭৯ - কসম হলে আল্লাহর নামেই কসম
কেমনভাবে শপথ করানো হবে?
قَالَ تَعَالَى : ﴾يَحْلِفُونَ بِاللهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ﴿ (التوبة : ٦٢) وَقَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا﴿ (النساء : ٦٢) وَقَوْلُ اللهِ ﴾وَيَحْلِفُونَ بِاللهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ﴿ (التوبة : ٥٦) ﴾يَحْلِفُونَ بِاللهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ﴿ ﴾فَيُقْسِمَانِ بِاللهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِنْ شَهَادَتِهِمَا﴿ (المائدة : ١٠٧) يُقَالُ بِاللهِ وَتَاللهِ وَوَاللهِ، وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ وَرَجُلٌ حَلَفَ بِاللهِ كَاذِبًا بَعْدَ الْعَصْرِ وَلَا يَحْلِفُ بِغَيْرِ اللهِ.মহান আল্লাহর বাণী: “তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলবে” অতঃপর তারা আপনার নিকট এসে আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ব্যতীত অন্য কিছুই চাই না (সূরা আন-নিসা: ৬২)। তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত (সূরা আত-তাওবা: ৫৬)। তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাদের নিকট আল্লাহর শপথ করে (সূরা আত-তাওবা: ৬২)।তারা উভয়ে আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য হতে অধিকতর সত্য (সূরা আল-মায়িদা: ১০৭)। কসম করার জন্য ব্যবহৃত হয় বিল্লাহে, তাল্লাহে, ওয়াল্লাহে। নবী (ﷺ) বলেন, আর যে ব্যক্তি ‘আসরের পর আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে। আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নামে শপথ করা যাবে না।"
শপথের সঠিক নিয়ম: আল্লাহর নামে কসম, নতুবা নীরবতা
সহীহ বুখারী : ২৬৭৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৭৯
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، قَالَ ذَكَرَ نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ ".
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, কারও হলফ করতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই হলফ করে, নতুবা চুপ করে থাকে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) শপথের একটি মৌলিক নিয়ম বলেছেন। কারও কসম করতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই কসম করে, নতুবা চুপ থাকে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কসম কোনো হালকা কথা নয়। মানুষ অভ্যাসে, রাগে বা কথা জোরালো করতে অনেক সময় নানা নামে কসম করে ফেলে। কিন্তু হাদিসটি শিখায়, শপথকে সম্মান করতে হবে এবং আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য নামে শপথ করা থেকে বাঁচতে হবে। একই সঙ্গে অকারণে কসম না করে চুপ থাকাও ভালো। তাই কথাবার্তায় সতর্কতা, আল্লাহর নামের মর্যাদা এবং সত্যভিত্তিক ভাষা—এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কসম করতে হলে আল্লাহর নামেই করা উচিত।
- অকারণে শপথ না করে চুপ থাকা উত্তম পথ।
- আল্লাহর নামকে সাধারণ কথার মতো ব্যবহার করা ঠিক নয়।
- কথাবার্তায় সতর্কতা ও সত্যবাদিতা প্রয়োজন।
