৫২/২৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮২ - মুনাফিকের তিন আলামত
যিনি অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দান করেছেন।
وَفَعَلَهُ الْحَسَنُ ﴾وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ﴿ (مريم : ٥٤) وَقَضَى ابْنُ الْأَشْوَعِ بِالْوَعْدِ وَذَكَرَ ذَلِكَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ وَقَالَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَذَكَرَ صِهْرًا لَهُ قَالَ وَعَدَنِي فَوَفَى لِي قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ وَرَأَيْتُ إِسْحَاقَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ يَحْتَجُّ بِحَدِيثِ ابْنِ أَشْوَعَহাসান বসরী (রহঃ) এরূপ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইসমাঈল (আঃ)-এর উল্লেখ করে ইরশাদ করেছেন যে, তিনি ওয়াদা পূরণে একনিষ্ঠ ছিলেন। (কুফার কাযী) ইবন আশওয়া (রহঃ) ওয়াদা পূরণের রায় ঘোষণা করেছেন। সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে। মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রহঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ)-কে তাঁর এক জামাতা সম্পর্কে বলতে শুনেছি, “সে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেছে।” আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, ইসহাক ইবন ইবরাহীমকে আমি ইবন আশওয়া (রহঃ)-এর হাদীস প্রমাণরূপে পেশ করতে দেখেছি।"
মুনাফিকের আলামত হাদিস: মিথ্যা, খেয়ানত ও ওয়াদা ভঙ্গ
সহীহ বুখারী : ২৬৮২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৮২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، نَافِعِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخَلَفَ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি- বলতে গেলে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে খিয়ানত করে, আর ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মুনাফিকের তিনটি আলামত পরিষ্কার করে বলেছেন। কেউ কথা বললে মিথ্যা বলে, তার কাছে আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে, আর ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে—এগুলো মুনাফিকসুলভ আচরণ। এখানে শিক্ষা খুব সরল: ঈমানের দাবি শুধু মুখের কথা নয়, মানুষের ব্যবহারেও তার ছাপ থাকতে হবে। মিথ্যা বলা মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করে, আমানতে খেয়ানত সম্পর্ক ভেঙে দেয়, আর ওয়াদা ভঙ্গ করলে আস্থা কমে যায়। তাই মুনাফিকের আলামত হাদিস একজন মুসলিমকে নিজের কথা, লেনদেন ও প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে সতর্ক করে। এই হাদিস কাউকে দ্রুত বিচার করার জন্য নয়; বরং নিজের চরিত্র ঠিক করার জন্য শক্ত সতর্কতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা বলা ঈমানদারের চরিত্রের সঙ্গে মানায় না।
- অন্যের আমানত রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব।
- ওয়াদা করলে তা পূরণের চেষ্টা করা উচিত।
- নিজের আচরণে মুনাফিকসুলভ গুণ আছে কি না—এটা দেখে সংশোধন দরকার।
