৫২/২৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮৩ - ওয়াদা পূরণ ও হক আদায়
যিনি অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দান করেছেন।
وَفَعَلَهُ الْحَسَنُ ﴾وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ﴿ (مريم : ٥٤) وَقَضَى ابْنُ الْأَشْوَعِ بِالْوَعْدِ وَذَكَرَ ذَلِكَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ وَقَالَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَذَكَرَ صِهْرًا لَهُ قَالَ وَعَدَنِي فَوَفَى لِي قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ وَرَأَيْتُ إِسْحَاقَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ يَحْتَجُّ بِحَدِيثِ ابْنِ أَشْوَعَহাসান বসরী (রহঃ) এরূপ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইসমাঈল (আঃ)-এর উল্লেখ করে ইরশাদ করেছেন যে, তিনি ওয়াদা পূরণে একনিষ্ঠ ছিলেন। (কুফার কাযী) ইবন আশওয়া (রহঃ) ওয়াদা পূরণের রায় ঘোষণা করেছেন। সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে। মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রহঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ)-কে তাঁর এক জামাতা সম্পর্কে বলতে শুনেছি, “সে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেছে।” আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, ইসহাক ইবন ইবরাহীমকে আমি ইবন আশওয়া (রহঃ)-এর হাদীস প্রমাণরূপে পেশ করতে দেখেছি।"
ওয়াদা পূরণের হাদিস: আবু বকর (রাঃ)-এর হক আদায়ের দৃষ্টান্ত
সহীহ বুখারী : ২৬৮৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৮৩
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رضى الله عنهم قَالَ لَمَّا مَاتَ النَّبِيُّ ﷺ جَاءَ أَبَا بَكْرٍ مَالٌ مِنْ قِبَلِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَضْرَمِيِّ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ مَنْ كَانَ لَهُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ دَيْنٌ، أَوْ كَانَتْ لَهُ قِبَلَهُ عِدَةٌ، فَلْيَأْتِنَا.قَالَ جَابِرٌ فَقُلْتُ وَعَدَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يُعْطِيَنِي هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا، فَبَسَطَ يَدَيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، قَالَ جَابِرٌ فَعَدَّ فِي يَدِي خَمْسَمِائَةٍ، ثُمَّ خَمْسَمِائَةٍ، ثُمَّ خَمْسَمِائَةٍ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর ওফাতের পর আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট [রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিযুক্ত বাহরাইনের শাসক] ‘আলা ইবনু হাযরামীর পক্ষ হতে মালপত্র এসে পৌঁছল। তখন আবূ বকর (রাঃ) ঘোষণা করলেন, নবী (ﷺ)-এর নিকট কারো কোন ঋণ থাকলে কিংবা তাঁর পক্ষ হতে কোন ওয়াদা থাকলে সে যেন আমাদের নিকট এসে তা নিয়ে যায়। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে এমন এমন এবং এমন দান করার ওয়াদা করেছিলেন। জাবির (রাঃ) তাঁর দু’হাত তিনবার ছড়িয়ে দেখালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, তখন তিনি [আবূ বক্র] (রাঃ) আমার দু’হাতে গুনে গুনে পাঁচশ’ দিলেন, আবার পাঁচশ’ দিলেন, আবার পাঁচশ’ দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওফাতের পর আবু বকর (রাঃ) তাঁর ঋণ ও ওয়াদার ব্যাপারে কত সতর্ক ছিলেন। বাহরাইন থেকে মাল আসার পর তিনি ঘোষণা করলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে কারো ঋণ থাকলে বা তাঁর পক্ষ থেকে কোনো ওয়াদা থাকলে সে যেন এসে তা নিয়ে যায়। জাবির (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর একটি দানের ওয়াদার কথা জানালে আবু বকর (রাঃ) তাঁকে তিনবার পাঁচশ করে দেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কথা ও দায়িত্বকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়। ওয়াদা পূরণের হাদিস হিসেবে এটি আমাদের শেখায়, যার হক আছে তাকে তার হক দেওয়া নেতৃত্ব, সততা ও আমানতদারির অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণ ও ওয়াদা পূরণ করা গুরুতর দায়িত্ব।
- নেতৃত্বের কাজে মানুষের হক আদায়ের প্রতি সতর্ক থাকা দরকার।
- কথা দিলে তা স্মরণ রাখা ও পূরণের চেষ্টা করা উত্তম চরিত্র।
- সাহাবীগণ নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওয়াদাকেও আমানত হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন।
