৫২/৩০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮৯ - আযান, প্রথম কাতার ও জামাআতের মর্যাদা
জটিল ব্যাপারে কুরআন মাধ্যমে ফয়সালা করা।
وَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ﴾إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ﴿ (آل عمران : ٤٤) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ اقْتَرَعُوا فَجَرَتِ الْأَقْلَامُ مَعَ الْجَرْيَةِ وَعَالَ قَلَمُ زَكَرِيَّاءَ الْجَرْيَةَ فَكَفَلَهَا زَكَرِيَّاءُ وَقَوْلِهِ ﴾فَسَاهَمَ﴿ أَقْرَعَ ﴾فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ﴿ (الصافات : ١٤١) مِنَ الْمَسْهومِينَ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَرَضَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى قَوْمٍ الْيَمِينَ فَأَسْرَعُوا فَأَمَرَ أَنْ يُسْهِمَ بَيْنَهُمْ أَيُّهُمْ يَحْلِفُমহান আল্লাহর বাণী: যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল মারয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাদের মধ্যে কে গ্রহণ করবে? (সূরা আলে ‘ইমরান ৪৪) ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা (কলম নিক্ষেপের মাধ্যমে) কুর‘আর ব্যবস্থা করল, তখন তাদের সবার কলম স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেল। শুধু যাকারিয়ার কলম স্রোতের মুখেও ভেসে রইল। তাই তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রেখে দিলেন।[ইউনুস (আঃ) সম্পর্কে] আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴾فَسَاهَمَ﴿ এর অর্থ কুর‘আ নিক্ষেপ করল। ﴾فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ﴿ (আস-সাফফাত: ১৪১) অতঃপর তিনি পরাভূত হলেন- (সূরা আস-সাফফাত ১৪১)। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) একদল লোককে হলফ করার নির্দেশ দিলেন। তারা কে আগে হলফ করবে তাই নিয়ে হুড়াহুড়ি শুরু করল। তখন কুর‘আর মাধ্যমে কে হলফ করবে তা নির্ধারণের নির্দেশ দিলেন।"
আযান ও প্রথম কাতারের ফজিলত হাদিস: জামাআতে আগ্রহের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৬৮৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৮৯
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ، ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আজান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা মানুষ যদি জানত আর কুর‘আ নিক্ষেপ ব্যতীত সে সুযোগ তারা না পেত, তাহলে কুর‘আ নিক্ষেপ করত, তেমনি আগে ভাগে জামা‘আতে শরীক হবার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে তারা সেদিকে ছুটে যেত। তেমনি ঈশা ও ফজরের জামা‘আতে হাজির হবার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে হাজির হত।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আযান, প্রথম কাতার, আগে জামাআতে আসা এবং ঈশা ও ফজরের জামাআতের মর্যাদা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষ যদি আযান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা জানত, আর লটারি ছাড়া সুযোগ না পেত, তবে তারা লটারি করত। আবার আগে ভাগে জামাআতে যাওয়ার মর্যাদা জানলে ছুটে যেত। ঈশা ও ফজরের জামাআতের মর্যাদা জানলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত। এই হাদিস আমাদের সালাতের ব্যাপারে আগ্রহী হতে শেখায়। এখানে অতিরঞ্জন নয়, বরং রসূল صلى الله عليه وسلم নিজেই মর্যাদার গুরুত্ব বোঝাতে শক্ত ভাষা ব্যবহার করেছেন। তাই জামাআত, আযান ও প্রথম কাতার মুসলিম জীবনে বড় মনোযোগের বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযান দেওয়া ও প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মর্যাদা বড়।
- জামাআতে আগে উপস্থিত হওয়ার উৎসাহ এই হাদিসে স্পষ্ট।
- ঈশা ও ফজরের জামাআত বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে।
- সালাতের ভালো সুযোগ পেতে আগ্রহ ও চেষ্টা দরকার।
