৫৬/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮০৫ - আনাস ইবন নাযরের অঙ্গীকার ও শাহাদাত
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ “মু‘মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।” (আল-আহযাব ২৩)
আনাস ইবন নাযর (রাঃ): অঙ্গীকার পূরণ ও শাহাদাতের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৮০৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৮০৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسًا. حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا زِيَادٌ، قَالَ حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ غَابَ عَمِّي أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ عَنْ قِتَالِ بَدْرٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، غِبْتُ عَنْ أَوَّلِ قِتَالٍ قَاتَلْتَ الْمُشْرِكِينَ، لَئِنِ اللَّهُ أَشْهَدَنِي قِتَالَ الْمُشْرِكِينَ لَيَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ وَانْكَشَفَ الْمُسْلِمُونَ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلاَءِ ـ يَعْنِي أَصْحَابَهُ ـ وَأَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلاَءِ " ـ يَعْنِي الْمُشْرِكِينَ ـ ثُمَّ تَقَدَّمَ، فَاسْتَقْبَلَهُ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ، فَقَالَ يَا سَعْدُ بْنَ مُعَاذٍ، الْجَنَّةَ، وَرَبِّ النَّضْرِ إِنِّي أَجِدُ رِيحَهَا مِنْ دُونِ أُحُدٍ. قَالَ سَعْدٌ فَمَا اسْتَطَعْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا صَنَعَ. قَالَ أَنَسٌ فَوَجَدْنَا بِهِ بِضْعًا وَثَمَانِينَ ضَرْبَةً بِالسَّيْفِ أَوْ طَعْنَةً بِرُمْحٍ أَوْ رَمْيَةً بِسَهْمٍ، وَوَجَدْنَاهُ قَدْ قُتِلَ وَقَدْ مَثَّلَ بِهِ الْمُشْرِكُونَ، فَمَا عَرَفَهُ أَحَدٌ إِلاَّ أُخْتُهُ بِبَنَانِهِ. قَالَ أَنَسٌ كُنَّا نَرَى أَوْ نَظُنُّ أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِيهِ وَفِي أَشْبَاهِهِ {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ} إِلَى آخِرِ الآيَةِ. وَقَالَ إِنَّ أُخْتَهُ وَهْىَ تُسَمَّى الرُّبَيِّعَ كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ امْرَأَةٍ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ، فَقَالَ أَنَسٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا. فَرَضُوا بِالأَرْشِ وَتَرَكُوا الْقِصَاصَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ".
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার চাচা আনাস ইব্নু নাযার (রাঃ) বদরের যুদ্ধের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের সঙ্গে আপনি প্রথম যে যুদ্ধ করেছেন, আমি সে সময় অনুপস্থিত ছিলাম। আল্লাহ্ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধে শরীক হবার সুযোগ দেন, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ্ দেখতে পাবেন যে, আমি কী করি।’অতঃপর উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে আনাস ইব্নু নাযার (রাঃ) বলেছিলেন, আল্লাহ! এঁরা অর্থাৎ তাঁর সাহাবীরা যা করেছেন, তাঁর সম্বন্ধে আপনার নিকট ওযর পেশ করছি এবং এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করেছে তা থেকে আমি নিজেকে সম্পর্কহীন বলে ঘোষণা করছি। অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন, এবং সা‘দ ইব্নু মু‘আযের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, হে সা‘দ ইব্নু মু‘আয, (আমার কাম্য)। নাযারের রবের কসম, উহুদের দিক থেকে আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি। সা‘দ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি যা করেছেন, আমি তা করতে পারিনি।আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা তাঁকে এমতাবস্থায় পেয়েছি যে, তাঁর দেহে আশিটিরও অধিক তলোয়ার, বর্শা ও তীরের যখম রয়েছে। আমরা তাঁকে নিহত অবস্থায় পেলাম। মুশরিকরা তাঁর দেহ বিকৃত করে দিয়েছিল। তাঁর বোন ব্যতীত কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি এবং বোন তাঁর আঙ্গুলের ডগা দেখে চিনতে পেরেছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমাদের ধারণা, কোরআনের এই আয়াতটি তাঁর এবং তাঁর মত মু’মিনদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।“মু’মিনদের মধ্যে হতে কিছু সংখ্যক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে।” (আল-আহযাবঃ ২৩)
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো অঙ্গীকার পূরণ ও শাহাদাত। আনাস ইবন নাযর (রাঃ) বদরের যুদ্ধে থাকতে পারেননি। তাই তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ যদি তাঁকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে আল্লাহ দেখবেন তিনি কী করেন। উহুদের দিনে মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হলে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং সামনে এগিয়ে যান। তাঁর মুখে জান্নাতের সুগন্ধের কথা আসে। পরে তাঁর দেহে বহু আঘাত পাওয়া যায়, এমনকি তাঁকে চিনতে কষ্ট হয়। আনাস (রাঃ) মনে করতেন, আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূরণের আয়াত তাঁর মতো মুমিনদের বিষয়ে নাযিল হয়েছে। এখানে সাহস, অঙ্গীকার, জান্নাতের আশা ও আল্লাহর পথে দৃঢ়তার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকারকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- কঠিন সময়ে মুমিনের সত্যনিষ্ঠা প্রকাশ পায়।
- সাহসের সঙ্গে আল্লাহর পথে এগিয়ে যাওয়া সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য ছিল।
- জান্নাতের আশা মুমিনকে দৃঢ় ও ধৈর্যশীল করে।
