২/৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪০ - কিবলা পরিবর্তন ও সালাতের মর্যাদা
সালাত ঈমানের শামিল।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ﴿ يَعْنِي صَلَاتَكُمْ عِنْدَ الْبَيْتِআল্লাহর বাণী: আল্লাহ এরূপ নন যে তোমাদের ঈমান ব্যর্থ করবেন। (সূরা আল-বাকারা ২/১৪৩)অর্থাৎ বাইতুল্লাহর নিকট (বাইতুল মুকাদ্দাসমুখী হয়ে) আদায়কৃত তোমাদের সালাতকে তিনি নষ্ট করবেন না।
কিবলা পরিবর্তন: বাইতুল্লাহর দিকে সালাত ও ঈমানের মর্যাদা
সহীহ বুখারী : ৪০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪০
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ أَوَّلَ مَا قَدِمَ الْمَدِينَةَ نَزَلَ عَلَى أَجْدَادِهِ ـ أَوْ قَالَ أَخْوَالِهِ ـ مِنَ الأَنْصَارِ، وَأَنَّهُ صَلَّى قِبَلَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا، أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا، وَكَانَ يُعْجِبُهُ أَنْ تَكُونَ قِبْلَتُهُ قِبَلَ الْبَيْتِ، وَأَنَّهُ صَلَّى أَوَّلَ صَلاَةٍ صَلاَّهَا صَلاَةَ الْعَصْرِ، وَصَلَّى مَعَهُ قَوْمٌ، فَخَرَجَ رَجُلٌ مِمَّنْ صَلَّى مَعَهُ، فَمَرَّ عَلَى أَهْلِ مَسْجِدٍ، وَهُمْ رَاكِعُونَ فَقَالَ أَشْهَدُ بِاللَّهِ لَقَدْ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قِبَلَ مَكَّةَ، فَدَارُوا كَمَا هُمْ قِبَلَ الْبَيْتِ، وَكَانَتِ الْيَهُودُ قَدْ أَعْجَبَهُمْ إِذْ كَانَ يُصَلِّي قِبَلَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، وَأَهْلُ الْكِتَابِ، فَلَمَّا وَلَّى وَجْهَهُ قِبَلَ الْبَيْتِ أَنْكَرُوا ذَلِكَ.قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ فِي حَدِيثِهِ هَذَا أَنَّهُ مَاتَ عَلَى الْقِبْلَةِ قَبْلَ أَنْ تُحَوَّلَ رِجَالٌ وَقُتِلُوا، فَلَمْ نَدْرِ مَا نَقُولُ فِيهِمْ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ﴿
বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মদীনায় হিজরত করে সর্বপ্রথম আনসারদের মধ্যে তাঁর নানাদের গোত্র [আবূ ইসহাক (রহঃ) বলেন] বা মামাদের গোত্রে এসে ওঠেন। তিনি ষোল-সতের মাস বাইতুল মাকদিসের দিকে ফিরে সালাত আদায় করেন। কিন্তু তাঁর পছন্দ ছিল যে, তাঁর কেবলা বাইতুল্লাহ্র দিকে হোক। আর তিনি (বাইতুল্লাহ্র দিকে) প্রথম যে সালাত আদায় করেন, তা ছিল আসরের সালাত এবং তাঁর সঙ্গে একদল লোক সে সালাত আদায় করেন।তাঁর সঙ্গে যাঁরা সালাত আদায় করেছিলেন তাঁদের একজন লোক বের হয়ে এক মসজিদে মুসল্লীদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা তখন রুকূ‘ অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ “আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এইমাত্র আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে মক্কার দিকে ফিরে সালাত আদায় করে এসেছি। তখন তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থায়ই বাইতুল্লাহ্র দিকে ঘুরে গেলেন। রাসূল (ﷺ) যখন বায়তুল মাকদিস-এর দিকে সালাত আদায় করতেন তখন ইয়াহুদীদের ও আহলি-কিতাবদের নিকট এটা খুব ভাল লাগত; কিন্তু তিনি যখন বায়তুল্লাহ্র দিকে তাঁর মুখ ফিরালেন তখন তারা এটা খুব অপছন্দ করল।যুহায়র (রহঃ) বলেন, আবূ ইসহাক (রহঃ) বারাআ (রাঃ) থেকে আমার নিকট যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে এ কথাও রয়েছে যে, কেবলা পরিবর্তনের পূর্বে বেশ কিছু লোক মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং শাহাদাত বরণ করেছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে আমরা কি বলব, সেটা আমাদের জানা ছিল না।তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেনঃ (وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ) “আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সালাতকে বিনষ্ট করবেন না”।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) মদীনায় এসে ষোলো-সতের মাস বাইতুল মাকদিসের দিকে সালাত আদায় করেন। তাঁর পছন্দ ছিল কিবলা বাইতুল্লাহর দিকে হোক। এরপর তিনি বাইতুল্লাহর দিকে প্রথম আসরের সালাত আদায় করেন। একজন ব্যক্তি অন্য মসজিদের মুসল্লিদের খবর দিলে তারা রুকু অবস্থাতেই বাইতুল্লাহর দিকে ঘুরে যায়। হাদিসে আরও এসেছে, কিবলা পরিবর্তনের আগে যারা মারা গিয়েছিলেন বা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের সালাত নিয়ে সাহাবীরা চিন্তিত ছিলেন। তখন আয়াত নাযিল হয় যে আল্লাহ তোমাদের ঈমান, অর্থাৎ সালাত, বিনষ্ট করবেন না। এটি আনুগত্য ও আল্লাহর ন্যায়ের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর নির্দেশ এলে মুমিনরা দ্রুত আনুগত্য করে।
- কিবলা পরিবর্তনের আগে আদায় করা সালাত আল্লাহ নষ্ট করেননি।
- সাহাবীরা নিজেদের আগের আমল নিয়ে চিন্তিত হতেন।
- সালাতকে এই বর্ণনায় ঈমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
