৬৪/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২৯ - সালাতুল খাওফের জামাআতের পদ্ধতি
যাতুর রিকা যুদ্ধ
وَهِيَ غَزْوَةُ مُحَارِبِ خَصَفَةَ مِنْ بَنِي ثَعْلَبَةَ مِنْ غَطَفَانَ فَنَزَلَ نَخْلًا وَهِيَ بَعْدَ خَيْبَرَ لِأَنَّ أَبَا مُوسَى جَاءَ بَعْدَ خَيْبَرَ.গাতফানের শাখা গোত্র বনূ সালাবার অন্তর্ভুক্ত খাসাফার বংশধর মুহারিব গোত্রের সঙ্গে এ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাখলা নামক স্থানে অবতরণ করেছিলেন। খায়বার যুদ্ধের পর এ যুদ্ধ হয়েছিল। কেননা আবূ মূসা (রাঃ) খায়বার যুদ্ধের পর (হাবশা থেকে) এসেছিলেন।"
সালাতুল খাওফের পদ্ধতি: এক দল সালাতে, এক দল পাহারায়
সহীহ বুখারী : ৪১২৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১২৯
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ يَزِيْدَ بْنِ رُوْمَانَ عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ عَمَّنْ شَهِدَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَوْمَ ذَاتِ الرِّقَاعِ صَلَّى صَلَاةَ الْخَوْفِ أَنَّ طَائِفَةً صَفَّتْ مَعَهُ وَطَائِفَةٌ وِجَاهَ الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِالَّتِيْ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ ثَبَتَ قَائِمًا وَأَتَمُّوْا لِأَنْفُسِهِمْ ثُمَّ انْصَرَفُوْا فَصَفُّوْا وِجَاهَ الْعَدُوِّ وَجَاءَتْ الطَّائِفَةُ الْأُخْرَى فَصَلَّى بِهِمْ الرَّكْعَةَ الَّتِيْ بَقِيَتْ مِنْ صَلَاتِهِ ثُمَّ ثَبَتَ جَالِسًا وَأَتَمُّوْا لِأَنْفُسِهِمْ ثُمَّ سَلَّمَ بِهِمْ
সালিহ ইবনু খাওয়াত (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এমন একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যিনি যাতুর রিকা’র যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কাতারে দাঁড়ালেন এবং অপর দলটি থাকলেন শত্রুর সম্মুখীন। এরপর তিনি তার সঙ্গে দাঁড়ানো দলটি নিয়ে এক রাক’আত সালাত আদায় করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। মুক্তাদীগণ তাদের সালাত পূর্ণ করে ফিরে গেলেন এবং শত্রুর সম্মুখে সারিবদ্ধ হয়ে বসে থাকলেন। এরপর অপর দলটি আসলে তিনি তাঁর সালাতের অবশিষ্ট রাক’আতটি তাদের নিয়ে আদায় করলেন, তারপর বসে থাকলেন। এরপর মুক্তাদীগণ তাদের সালাত সম্পূর্ণ করলে তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাতুর রিকার দিনে সালাতুল খাওফের একটি পদ্ধতি পরিষ্কারভাবে এসেছে। একদল সাহাবী নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে কাতারে দাঁড়ালেন, আর অন্য দল শত্রুর মুখোমুখি থাকলেন। নবী صلى الله عليه وسلم সঙ্গে থাকা দলকে এক রাকাত পড়ালেন, তারপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেন। সেই দল নিজেরা সালাত পূর্ণ করে শত্রুর সামনে চলে গেল। এরপর অন্য দল এল, নবী صلى الله عليه وسلم তাদের নিয়ে বাকি রাকাত পড়ালেন। পরে তারা নিজেদের সালাত পূর্ণ করলে নবী صلى الله عليه وسلم তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, সালাতুল খাওফে ইবাদত ও নিরাপত্তা—দুই দিকই গুরুত্ব পায়। সালাতের জামাআত বজায় থাকে, আবার পাহারাও বন্ধ হয় না। হাদিসটি যুদ্ধের সময় নামাজের পদ্ধতি জানার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয় বা বিপদের অবস্থাতেও সালাতের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- সাহাবীরা নিরাপত্তা ও সালাত—দুই দিকই একসঙ্গে সামলেছেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে জামাআতের ব্যবস্থা করেছেন।
- শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায়ও কাতার ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব দেখা যায়।
