১২/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৪২ - খাওফের সালাতের নিয়ম ও জামাআতের শিক্ষা
খাওফের সালাত (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত)।
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُبِينًا وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِنْ وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُمْ مَيْلَةً وَاحِدَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَنْ تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا﴿মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: “আর যখন তোমরা পৃথিবীতে সফর করবে, তখন তোমাদের কোনো গুনাহ হবে না যদি তোমরা সালাত সংক্ষিপ্ত কর, এ আশংকায় যে, কাফিররা তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করবে। নিশ্চয় কাফিররা হল তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর আপনি যখন তাদের মধ্যে থাকেন এবং তাদের সালাত পড়াতে চান, তখন যেন তাদের একদল আপনার সাথে দাঁড়ায় এবং তারা যেন নিজেদের অস্ত্র সাথে রাখে। তারপর যখন তারা সিজদা সম্পন্ন করবে তখন যেন তারা তোমাদের পেছনে অবস্থান নেয়, আর অন্য দল যারা সালাত আদায় করেনি তারা যেন আপনার সাথে সালাত আদায় করে নেয় এবং তারা যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। কাফিররা চায় যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও যাতে তারা একযোগে তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্ট পাও অথবা যদি তোমরা অসুস্থ হও, এ অবস্থায় নিজেদের অস্ত্র পরিত্যাগ করলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। কিন্তু তোমরা সতর্কতা অবলম্বন করবে। আল্লাহ কাফিরদের জন্য অবশ্যই লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” (সূরা আন-নিসা ৪/১০১-১০২)"
খাওফের সালাতের নিয়ম: শত্রুর সামনে সালাত ও পাহারার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৯৪২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৪২
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ سَأَلْتُهُ هَلْ صَلَّى النَّبِيُّ ﷺ يَعْنِي صَلاَةَ الْخَوْفِ قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمٌ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَغَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قِبَلَ نَجْدٍ، فَوَازَيْنَا الْعَدُوَّ فَصَافَفْنَا لَهُمْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي لَنَا فَقَامَتْ طَائِفَةٌ مَعَهُ تُصَلِّي، وَأَقْبَلَتْ طَائِفَةٌ عَلَى الْعَدُوِّ وَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِمَنْ مَعَهُ، وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ انْصَرَفُوا مَكَانَ الطَّائِفَةِ الَّتِي لَمْ تُصَلِّ، فَجَاءُوا، فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِهِمْ رَكْعَةً، وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ، فَقَامَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ فَرَكَعَ لِنَفْسِهِ رَكْعَةً وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি যুহরী (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) কি সালাত আদায় করতেন অর্থাৎ খাওফের সালাত? তিনি বললেন, আমাকে সালিম (রহঃ) জানিয়েছেন যে, ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে নাজ্দ এলাকায় যুদ্ধ করেছিলাম। সেখানে আমরা শত্রুর মুখোমুখি কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম।অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। একদল তাঁর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালেন এবং অন্য একটি দল শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাঁদের নিয়ে রুকু ও দুটি সিজদা করলেন।অতঃপর এ দলটি যারা সালাত আদায় করেনি, তাঁদের স্থানে চলে গেলেন এবং তাঁরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর পিছনে এগিয়ে এলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁদের সঙ্গে এক রুকু ও দু’ সিজদা করলেন এবং পরে সালাম ফিরালেন। অতঃপর তাঁদের প্রত্যেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজে নিজে একটি রুকু ও দুটি সিজদা (সহ সালাত) শেষ করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাওফের সালাতের একটি বিস্তারিত চিত্র এসেছে। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে নাজদ এলাকায় যুদ্ধে ছিলেন। শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায় মুসলিমরা কাতারবন্দী হন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم সবাইকে একসঙ্গে একভাবে দাঁড় করাননি; বরং একদল তাঁর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালেন, আরেকদল শত্রুর দিকে সতর্ক অবস্থায় থাকলেন। প্রথম দল রুকু ও সিজদা করার পর তারা পাহারার স্থানে গেলেন। এরপর দ্বিতীয় দল এসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে সালাতে অংশ নিলেন। শেষে প্রত্যেকে নিজের বাকি সালাত পূর্ণ করলেন। এই বর্ণনায় খাওফের সালাত, জামাআত, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়। হাদিসটি দেখায়, ভয় ও বিপদের সময়ও সালাতের গুরুত্ব থাকে; তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয়ের অবস্থায়ও সালাতের গুরুত্ব এই বর্ণনায় স্পষ্ট।
- শত্রুর সামনে একদল সালাতে এবং একদল পাহারায় ছিল।
- জামাআতের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা একসঙ্গে রক্ষা করা হয়েছিল।
- প্রত্যেকে নিজের বাকি সালাত পূর্ণ করার কথা বর্ণনায় এসেছে।
