১২/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৪৩ - তীব্র ভয়ের সময় দাঁড়িয়ে ও আরোহী অবস্থায় সালাত
পদাতিক বা আরোহী অবস্থায় ভয়ের সালাত।
তীব্র ভয়ের সময় সালাত: দাঁড়িয়ে ও আরোহী অবস্থায় আদায়ের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৯৪৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৪৩
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقُرَشِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، نَحْوًا مِنْ قَوْلِ مُجَاهِدٍ إِذَا اخْتَلَطُوا قِيَامًا. وَزَادَ ابْنُ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ «وَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَلْيُصَلُّوا قِيَامًا وَرُكْبَانًا».
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সৈন্যরা যখন পরস্পর (শত্রুমিত্র) মিলিত হয়ে যায়, ‘তখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। ইব্নু ‘উমর (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে আরো বলেছেন যে, যদি সৈন্যদের অবস্থা এর চেয়ে গুরুতর হয়ে যায়, তাহলে দাঁড়ানো অবস্থায় এবং আরোহী অবস্থায় সালাত আদায় করবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যুদ্ধের খুব কঠিন অবস্থার কথা বলা হয়েছে। যখন সৈন্যরা শত্রুর সঙ্গে এত কাছাকাছি হয়ে যায় যে আলাদা অবস্থা রাখা কঠিন হয়, তখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের কথা এসেছে। ইবনু উমর (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم থেকে আরও বলেন, যদি অবস্থা এর চেয়েও গুরুতর হয়ে যায়, তাহলে দাঁড়ানো অবস্থায় এবং আরোহী অবস্থায় সালাত আদায় করবে। এখানে মূল বিষয় হলো খাওফের সালাত বা ভয়কালীন সালাত। হাদিসটি আমাদের বুঝায়, বিপদের সময় সালাত বাদ দেওয়ার কথা এখানে বলা হয়নি; বরং পরিস্থিতির ভেতরেই সালাত আদায়ের পদ্ধতির কথা এসেছে। তবে এই ব্যাখ্যা শুধু হাদিসের কথার মধ্যেই সীমিত রাখা হচ্ছে। এখানে যুদ্ধ, শত্রুর মুখোমুখি অবস্থা, দাঁড়িয়ে সালাত এবং আরোহী অবস্থায় সালাত—এসব বিষয় সরাসরি বর্ণনায় আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অত্যন্ত ভয়ের অবস্থাতেও সালাতের কথা এই হাদিসে এসেছে।
- শত্রুর সঙ্গে মিশে গেলে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের বর্ণনা আছে।
- অবস্থা আরও গুরুতর হলে আরোহী অবস্থায় সালাতের কথা এসেছে।
- সালাত আদায়ে পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
