৬৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪৭ - বৃষ্টি আল্লাহর রহমত ও তাওহীদের শিক্ষা
হুদাইবিয়ার যুদ্ধ।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: মুমিনগণ যখন গাছের তলে আপনার নিকট বাই‘আত গ্রহণ করল তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন ........। (সূরা ফাতহ ৪৮/১৮)"
বৃষ্টি আল্লাহর রহমত: তারকার নয়, রবের ফজল
সহীহ বুখারী : ৪১৪৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৪৭
خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَخَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَصَابَنَا مَطَرٌ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَصَلَّى لَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الصُّبْحَ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ أَتَدْرُوْنَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قُلْنَا اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ فَقَالَ قَالَ اللهُ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِيْ مُؤْمِنٌ بِيْ وَكَافِرٌ بِيْ فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِرَحْمَةِ اللهِ وَبِرِزْقِ اللهِ وَبِفَضْلِ اللهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ بِيْ كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَجْمِ كَذَا فَهُوَ مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ كَافِرٌ بِي.
যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুদাইবিয়ার বছর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বের হলাম। এক রাতে খুব বৃষ্টি হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপরে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা জান কি তোমাদের রব কী বলেছেন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহ্র রাসূলই অধিক জানেন।তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন (বৃষ্টির কারণে) আমার কতিপয় বান্দা আমার প্রতি ঈমান এনেছে, আর কেউ কেউ আমাকে অমান্য করেছে। যারা বলেছে, আল্লাহ্র রহমত, আল্লাহ্র দয়া এবং আল্লাহ্র ফযলে আমাদের প্রতি বৃষ্টি হয়েছে, তারা আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মু’মিন এবং তারা নক্ষত্রের প্রভাব অস্বীকারকারী। আর যারা বলেছে যে অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে [৪১], তারা তারকার প্রতি ঈমান এনেছে এবং আমাকে অস্বীকারকারী কাফির।
[৪১] কেউ যদি এ বিশ্বাস বা আকীদা পোষণ করে তারকা বা নক্ষত্রের কোন ক্ষমতা প্রভাব আছে, তারকার প্রভাবকে যারা বৃষ্টিপাত হওয়া বা না হওয়ার কারণ মনে করে তারা স্পষ্টত কুফুরীর মধ্যে পতিত। কারণ এর দ্বারা আল্লাহর এখতিয়ার বা সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা হয় এবং তারকার শক্তির প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকে। এটা সম্পূর্ণ কুফুরী ও জাহিলী যুগের বিশ্বাস। ইমাম নাবাবী (রহঃ), ইমাম শাফি’ঈ (রহঃ) ও জমহুর ‘আলিমদের মত এটাই।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় তাওহীদ ও বৃষ্টির বিশ্বাস। হুদাইবিয়ার বছর এক রাতে বৃষ্টি হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফজরের সালাতের পর সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা জান কি তোমাদের রব কী বলেছেন? তারপর তিনি জানালেন, আল্লাহ বলেছেন—কিছু বান্দা আমার প্রতি ঈমান এনেছে, আর কিছু আমাকে অমান্য করেছে। যারা বলে, আল্লাহর রহমত, দয়া ও ফজলে বৃষ্টি হয়েছে, তারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রভাব অস্বীকারকারী। আর যারা বলে, অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে, তারা তারকার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী এবং আল্লাহকে অস্বীকারকারী। হাদিসটি বৃষ্টি সম্পর্কে কথার আদব শেখায়। প্রাকৃতিক ঘটনাকে আল্লাহর দান হিসেবে দেখা মুমিনের মনকে তাওহীদের দিকে রাখে। এখানে শিক্ষা হলো, বৃষ্টির চূড়ান্ত দাতা আল্লাহ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত, দয়া ও ফজল হিসেবে স্বীকার করা উচিত।
- তারকা বা নক্ষত্রকে বৃষ্টির আসল কারণ বলা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- প্রাকৃতিক দান দেখলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া দরকার।
- কথার ভেতরেও তাওহীদের বিশ্বাস প্রকাশ পায়।
