৬৪/৩৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৮৯ - নিজের মতের ব্যাপারে সতর্ক থাকার শিক্ষা

হুদাইবিয়ার যুদ্ধ।

وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: মুমিনগণ যখন গাছের তলে আপনার নিকট বাই‘আত গ্রহণ করল তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন ........। (সূরা ফাতহ ৪৮/১৮)"

নিজের মতামত নিয়ে সতর্কতা: আবু জানদালের ঘটনার শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৮৯

الْحَسَنُ بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَصِيْنٍ قَالَ قَالَ أَبُوْ وَائِلٍ لَمَّا قَدِمَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ مِنْ صِفِّيْنَ أَتَيْنَاهُ نَسْتَخْبِرُهُ فَقَالَ اتَّهِمُوا الرَّأْيَ فَلَقَدْ رَأَيْتُنِيْ يَوْمَ أَبِيْ جَنْدَلٍ وَلَوْ أَسْتَطِيْعُ أَنْ أَرُدَّ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَمْرَهُ لَرَدَدْتُ وَاللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ وَمَا وَضَعْنَا أَسْيَافَنَا عَلَى عَوَاتِقِنَا لِأَمْرٍ يُفْظِعُنَا إِلَّا أَسْهَلْنَ بِنَا إِلَى أَمْرٍ نَعْرِفُهُ قَبْلَ هَذَا الْأَمْرِ مَا نَسُدُّ مِنْهَا خُصْمًا إِلَّا انْفَجَرَ عَلَيْنَا خُصْمٌ مَا نَدْرِيْ كَيْفَ نَأْتِيْ لَهُ.

সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ ওয়াইল (রহঃ) বলেছেন যে, সাহ্‌ল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) যখন সিফ্‌ফীন যুদ্ধ থেকে ফিরলেন তখন যুদ্ধের খবরাখবর জানার জন্য আমরা তাঁর কাছে আসলে তিনি বললেন, নিজেদের মতামতকে সন্দেহমুক্ত মনে করবে। আবূ জানদাল (রাঃ)-এর ঘটনার [৪৫] দিন আমি আমাকে (আল্লাহ্‌র পথে) দেখতে পেয়েছিলাম। সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশ আমি উপেক্ষা করতে পারলে উপেক্ষা করতাম। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন।আর কোন দুঃসাধ্য কাজের জন্য আমরা যখন তরবারি হাতে নিয়েছি তখন তা আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজসাধ্য হয়ে গেছে। এ যুদ্ধের পূর্বে আমরা যত যুদ্ধ করেছি তার সবগুলোকে আমরা নিজেদের জন্য কল্যাণকর মনে করেছি। কিন্তু এ যুদ্ধের অবস্থা এই যে, আমরা একটি সমস্যা সামাল দিতে না দিতেই আরেকটি নতুন সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু কোন সমাধানের পথ আমাদের জানা নেই।

[৪৫] হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্র লেখা শেষ হলে উভয় পক্ষ হতে তাতে স্বাক্ষর করল। ঠিক এ সময়ে এক কাণ্ড ঘটলো। মাক্কাহ হতে সুহায়লের পুত্র আবূ জানদাল শিকল পরা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলো। ইসলাম গ্রহণ করায় দীর্ঘদিন যাবত তার উপর অত্যাচার চলছিল। আবূ জানদালকে দেখে সুহাইল বলে উঠলো মুহাম্মাদ! এইবার আপনার আন্তরিকতার পরীক্ষা উপস্থিত। সন্ধির শর্তানুসারে আপনি এখন আবূ জানদালকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। " আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেন, "নিশ্চয় আমি আমার কর্তব্য পালন করবো। " এই বলে তিনি আবূ জানদালকে বুঝিয়ে মাক্কাহয় ফিরে যেতে আদেশ দিলেন। সে কী করুণ দৃশ্য। আবূ জানদাল নিজের শরীরের ক্ষতগুলো দেখিয়ে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) ও মুসলিমদেরকে বললেন, "আজ আমাকে কুরায়শদের হাতে সমর্পণ করা হচ্ছে। সেখানে ধর্মচ্যুত করার জন্য আমার উপর আবার এহেন অত্যাচার করা হবে। " রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ জানদালকে গভীর বেদনাযুক্ত গম্ভীর স্বরে বললেন, "আবূ জানদাল, তোমার পরীক্ষা খুবই কঠিন, ধৈর্য ধারণ কর, আল্লাহ্‌র নামে শক্তি সঞ্চয় কর। সব কিছু সহ্য করে নাও। তোমার ও তোমার ন্যায় উৎপীড়িত মুসলিমদের জন্য আল্লাহ শীঘ্রই উপায় করে দিবেন-(বুখারী বাবুশ শরুত ফিল জিহাদ, হাদীস নং ২৭৩৪)। আমরা এইমাত্র সন্ধি করেছি, তার অমর্যাদা করা অসম্ভব। " অতঃপর আবূ জানদালকে কুরায়শদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হলো। আবূ জানদালের অত্যাচার দেখে মুসলিমদের মনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় কিন্তু নাবী (ﷺ)-এর নির্দেশে ধৈর্য ধারণ করেন। আবূ জানদাল কারাগারে পৌঁছে দ্বীন প্রচারের কাজ শুরু করেন। যে কেউই তাকে পাহারা দেয়ার কাজে আদিষ্ট হতো তাকে তিনি তাওহীদের দাওয়াত দিতেন এবং আল্লাহ তা’আলার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার বর্ণনা দিয়ে ঈমানের পথ প্রদর্শন করতেন। আল্লাহ্‌র কী অপার মহিমা সে পাহারাদার লোকটিও মুসলিম হতে যেতো এবং তাকেও বন্দী করা হতো। এভাবে ফল দাঁড়ালো এই যে, তাঁর দাওয়াতে আল্লাহ্‌র অশেষ রাহমতে প্রায় তিনশত লোক ঈমান আনলেন। (রহমাতুল লিল ‘আলামীন-আল্লামা কাযী মুহাম্মাদ সুলাইমনা মানসূর পূরী)

সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৮৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সহল ইবন হুনাইফ রাঃ সিফফীন থেকে ফিরে লোকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন, নিজেদের মতামতকে সন্দেহমুক্ত মনে করবে না। আবু জানদাল রাঃ-এর ঘটনার দিন তাঁর নিজের অবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেদিন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আদেশ উপেক্ষা করতে পারলে তিনি হয়তো করতেন; কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। এই কথায় বোঝা যায়, কখনো মানুষের নিজের বুঝ ও অনুভূতি তাকে অস্থির করে তুলতে পারে। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم-এর সিদ্ধান্তের সামনে নিজের মতকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। হাদিসে আরও এসেছে, আগের যুদ্ধগুলো তাঁদের কাছে সহজ হয়ে যেত, কিন্তু সিফফীনের ব্যাপারে সমস্যা একটার পর একটা দেখা দিয়েছিল।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নিজের মতকে সব সময় নিখুঁত মনে করা ঠিক নয়।
  • রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানুষের ব্যক্তিগত আবেগের ঊর্ধ্বে।
  • আবু জানদালের ঘটনার দিন সাহাবিদের মনেও কষ্ট ছিল।
  • জটিল পরিস্থিতিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জ্ঞানকে আগে মানতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন