৬৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৮০ - হুদায়বিয়া সন্ধির শর্ত ও মুমিন নারীদের হিজরত
হুদাইবিয়ার যুদ্ধ।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: মুমিনগণ যখন গাছের তলে আপনার নিকট বাই‘আত গ্রহণ করল তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন ........। (সূরা ফাতহ ৪৮/১৮)"
হুদায়বিয়া সন্ধি: চুক্তি রক্ষা ও মুমিন নারীদের হিজরতের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪১৮০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৮০
إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا يَعْقُوْبُ حَدَّثَنِي ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمِّهِ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ يُخْبِرَانِ خَبَرًا مِنْ خَبَرِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فِيْ عُمْرَةِ الْحُدَيْبِيَةِفَكَانَ فِيْمَا أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ عَنْهُمَا أَنَّهُ لَمَّا كَاتَبَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سُهَيْلَ بْنَ عَمْرٍو يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ عَلَى قَضِيَّةِ الْمُدَّةِ وَكَانَ فِيْمَا اشْتَرَطَ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو أَنَّهُ قَالَ لَا يَأْتِيْكَ مِنَّا أَحَدٌ وَإِنْ كَانَ عَلَى دِيْنِكَ إِلَّا رَدَدْتَهُ إِلَيْنَا وَخَلَّيْتَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ وَأَبَى سُهَيْلٌ أَنْ يُقَاضِيَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ إِلَّا عَلَى ذَلِكَ فَكَرِهَ الْمُؤْمِنُوْنَ ذَلِكَ وَامَّعَضُوْا فَتَكَلَّمُوْا فِيْهِ فَلَمَّا أَبَى سُهَيْلٌ أَنْ يُقَاضِيَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ إِلَّا عَلَى ذَلِكَ كَاتَبَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَرَدَّ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَبَا جَنْدَلِ بْنَ سُهَيْلٍ يَوْمَئِذٍ إِلَى أَبِيْهِ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو وَلَمْ يَأْتِ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ أَحَدٌ مِنْ الرِّجَالِ إِلَّا رَدَّهُ فِيْ تِلْكَ الْمُدَّةِ وَإِنْ كَانَ مُسْلِمًاوَجَاءَتْ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَكَانَتْ أُمُّ كُلْثُوْمٍ بِنْتُ عُقْبَةَ بْنِ أَبِيْ مُعَيْطٍ مِمَّنْ خَرَجَ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَهِيَ عَاتِقٌ فَجَاءَ أَهْلُهَا يَسْأَلُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ أَنْ يَرْجِعَهَا إِلَيْهِمْ حَتَّى أَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى فِي الْمُؤْمِنَاتِ مَا أَنْزَلَ.
‘উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি মারওয়ান ইবনু হাকাম এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) উভয়কে হুদাইবিয়াহর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ‘উমরাহ্ আদায় করার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন। তাঁদের থেকে ‘উরওয়াহ (রহঃ) আমার (মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু শিহাব) নিকট যা বর্ণনা করছেন তা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুহায়ল ইবনু ‘আমরকে হুদাইবিয়াহর দিন সন্ধিনামায় যা লিখিয়েছিলেন তার মধ্যে সুহায়ল ইবনু ‘আমরের শর্তগুলোর একটি শর্ত ছিল এইঃ আমাদের থেকে যদি কেউ আপনার কাছে চলে যায় তাকে আমাদের কাছে ফেরত দিতে হবে যদিও সে আপনার ধর্মের উপর থাকে এবং তার ও আমাদের মধ্যে আপনি কোন বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না।এ শর্ত পূর্ণ করা ছাড়া সুহায়ল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে সন্ধি করতেই অস্বীকৃতি জানায়। এ শর্তটিকে মু’মিনগণ অপছন্দ করলেন এবং এতে তারা ক্ষুব্ধ হলেন ও এর বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করলেন। কিন্তু যখন সুহায়ল এ শর্ত ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে চুক্তি করতে অস্বীকার করল তখন এ শর্তের উপরই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্ধিপত্র লেখালেন এবং আবূ জানদাল ইবনু সুহায়ল (রাঃ)-কে ঐ মুহূর্তেই তার পিতা সুহায়ল ইবনু ‘আমরের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সন্ধির মেয়াদকালে পুরুষদের মধ্যে যারাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে চলে আসতেন, মুসলিম হলেও তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে দিতেন।এ সময় কিছু সংখ্যক মুসলিম মহিলা হিজরাত করে চলে আসেন। উম্মু কুলসুম বিনত ‘উকবাহ ইবনু আবূ মু‘আইত (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হিজরাতকারিণী একজন যুবতী মহিলা। তিনি হিজরাত করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে পৌঁছলে তার পরিবারের লোকেরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানালো। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন মহিলাদের সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করার তা অবতীর্ণ করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুদায়বিয়া সন্ধির একটি কঠিন দিক তুলে ধরা হয়েছে। সুহাইল ইবন আমর শর্ত দিয়েছিলেন, তাদের পক্ষ থেকে কেউ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে, সে মুসলিম হলেও। সাহাবিগণ এ শর্ত পছন্দ করেননি এবং কষ্ট পেয়েছিলেন। তবু রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم চুক্তি সম্পন্ন করেন এবং আবু জানদাল ইবন সুহাইলকে তাঁর পিতার কাছে ফিরিয়ে দেন। হাদিসটি আমাদের চুক্তি রক্ষা, ধৈর্য এবং আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষার শিক্ষা দেয়। পরে মুমিন নারীরা হিজরত করে এলে তাদের বিষয়ে আল্লাহ যে নির্দেশ নাজিল করেন, তা আলাদা গুরুত্ব পায়। তাই হুদায়বিয়া সন্ধি শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং ঈমান, ধৈর্য ও আনুগত্যের বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুক্তি করার পর তা রক্ষা করা ইসলামী চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- কোনো সিদ্ধান্ত কঠিন মনে হলেও নবী صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণে ধৈর্য রাখা দরকার।
- মুমিনদের কষ্ট ও আপত্তির মাঝেও আল্লাহর নির্দেশই শেষ কথা।
- হিজরতকারী মুমিন নারীদের বিষয়টি আল্লাহর বিশেষ নির্দেশের সঙ্গে যুক্ত।
