৬৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৭৯ - হুদাইবিয়ায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর লক্ষ্য ও সাহাবীদের পরামর্শ
হুদাইবিয়ার যুদ্ধ।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: মুমিনগণ যখন গাছের তলে আপনার নিকট বাই‘আত গ্রহণ করল তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন ........। (সূরা ফাতহ ৪৮/১৮)"
হুদাইবিয়ার ঘটনা: লক্ষ্য, পরামর্শ ও আল্লাহর নামে অগ্রসর হওয়া
সহীহ বুখারী : ৪১৭৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৭৯
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ حِيْنَ حَدَّثَ هَذَا الْحَدِيْثَ حَفِظْتُ بَعْضَهُ وَثَبَّتَنِيْ مَعْمَرٌ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ وَمَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ يَزِيْدُ أَحَدُهُمَا عَلَى صَاحِبِهِقَالَا خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فِيْ بِضْعَ عَشْرَةَ مِائَةً مِنْ أَصْحَابِهِ فَلَمَّا أَتَى ذَا الْحُلَيْفَةِ قَلَّدَ الْهَدْيَ وَأَشْعَرَهُ وَأَحْرَمَ مِنْهَا بِعُمْرَةٍ وَبَعَثَ عَيْنًا لَهُ مِنْ خُزَاعَةَ وَسَارَ النَّبِيُّ ﷺ حَتَّى كَانَ بِغَدِيْرِ الْأَشْطَاطِ أَتَاهُ عَيْنُهُ قَالَ إِنَّ قُرَيْشًا جَمَعُوْا لَكَ جُمُوْعًا وَقَدْ جَمَعُوْا لَكَ الْأَحَابِيْشَ وَهُمْ مُقَاتِلُوْكَ وَصَادُّوْكَ عَنِ الْبَيْتِ وَمَانِعُوْكَفَقَالَ أَشِيْرُوْا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيَّ أَتَرَوْنَ أَنْ أَمِيْلَ إِلَى عِيَالِهِمْ وَذَرَارِيِّ هَؤُلَاءِ الَّذِيْنَ يُرِيْدُوْنَ أَنْ يَصُدُّوْنَا عَنِ الْبَيْتِ فَإِنْ يَأْتُوْنَا كَانَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ قَطَعَ عَيْنًا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ وَإِلَّا تَرَكْنَاهُمْ مَحْرُوْبِيْنَ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ يَا رَسُوْلَ اللهِ خَرَجْتَ عَامِدًا لِهَذَا الْبَيْتِ لَا تُرِيْدُ قَتْلَ أَحَدٍ وَلَا حَرْبَ أَحَدٍ فَتَوَجَّهْ لَهُ فَمَنْ صَدَّنَا عَنْهُ قَاتَلْنَاهُ قَالَ امْضُوْا عَلَى اسْمِ اللهِ.
মারওয়ান ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা একে অন্যের চেয়ে অধিক বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বলেন, হুদাইবিয়াহর বছর নবী (ﷺ) এক সহস্রাধিক সাহাবী সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। যখন তাঁরা যুল হুলাইফাহ পৌঁছলেন কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, ইশ‘আর করলেন। সেখান থেকে ‘উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন এবং খুযাআ গোত্রের এক লোককে গোয়েন্দা হিসেবে পাঠালেন। নবী (ﷺ) নিজেও রওয়ানা হলেন। গাদীরুল আশ্তাত নামক স্থানে পৌঁছলে গোয়েন্দা এসে তাঁকে বলল, কুরাইশরা বিরাট দল নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে। তারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দিবে ও বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।তখন তিনি বললেন, ‘‘হে লোক সকল! তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও, যারা আমাদেরকে বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দেয়ার ইচ্ছা করছে, আমি কি তাদের পরিবারবর্গ এবং সন্তান-সন্ততিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব। তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প করে থাকলে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন, যিনি মুশরিকদের থেকে একজন গোয়েন্দাকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছেন। আর যদি তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে তাহলে আমরা তাদের পরিবার এবং অর্থ-সম্পদ থেকে বিরত থাকব এবং তাদেরকে তাদের পরিবার ও অর্থ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।’’তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি তো বাইতুল্লাহর উদ্দেশে বেরিয়েছেন, কাউকে হত্যা করা এবং কারো সঙ্গে লড়াই করার উদ্দেশে তো আসেননি। তাই বাইতুল্লাহর দিকে চলুন। যে আমাদেরকে তা থেকে বাধা দিবে আমরা তার সঙ্গে লড়াই করব। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে চল আল্লাহর নামে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুদাইবিয়ার ঘটনাটি আবার বর্ণিত হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) এক সহস্রাধিক সাহাবি নিয়ে বের হন। যুল হুলাইফায় কুরবানির পশুর চিহ্ন দেন, উমরার ইহরাম বাঁধেন এবং সংবাদ আনার জন্য একজন লোক পাঠান। পথে খবর আসে, কুরাইশরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং মুসলিমদের বাইতুল্লাহয় যেতে বাধা দিতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের কাছে পরামর্শ চান। আবু বকর (রাঃ) খুব পরিষ্কারভাবে বলেন, আপনি বাইতুল্লাহর উদ্দেশে বেরিয়েছেন, যুদ্ধ করার উদ্দেশে নয়। তাই সেই দিকেই চলুন; যারা বাধা দেবে, তাদের সঙ্গে তখন মোকাবিলা হবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কথার পর বলেন, আল্লাহর নামে চল। এই বর্ণনা মুসলিমকে শেখায়—কঠিন অবস্থায় লক্ষ্য ঠিক রাখা, পরামর্শ নেওয়া এবং সিদ্ধান্তে আল্লাহর উপর ভরসা করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বের হলে সেই উদ্দেশ্য মনে রাখা দরকার।
- সংকটে পরামর্শ নেওয়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলে দেখা যায়।
- আবু বকর রাঃ লক্ষ্যভিত্তিক পরামর্শ দিয়েছিলেন।
- আল্লাহর নামে কাজ শুরু করা ভরসার প্রকাশ।
