৬৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৭৮ - হুদাইবিয়ার সফর ও পরামর্শের শিক্ষা
হুদাইবিয়ার যুদ্ধ।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: মুমিনগণ যখন গাছের তলে আপনার নিকট বাই‘আত গ্রহণ করল তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন ........। (সূরা ফাতহ ৪৮/১৮)"
হুদাইবিয়ার সফর: পরামর্শ, ইহরাম ও আল্লাহর নামে যাত্রা
সহীহ বুখারী : ৪১৭৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৭৮
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ حِيْنَ حَدَّثَ هَذَا الْحَدِيْثَ حَفِظْتُ بَعْضَهُ وَثَبَّتَنِيْ مَعْمَرٌ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ وَمَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ يَزِيْدُ أَحَدُهُمَا عَلَى صَاحِبِهِقَالَا خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فِيْ بِضْعَ عَشْرَةَ مِائَةً مِنْ أَصْحَابِهِ فَلَمَّا أَتَى ذَا الْحُلَيْفَةِ قَلَّدَ الْهَدْيَ وَأَشْعَرَهُ وَأَحْرَمَ مِنْهَا بِعُمْرَةٍ وَبَعَثَ عَيْنًا لَهُ مِنْ خُزَاعَةَ وَسَارَ النَّبِيُّ ﷺ حَتَّى كَانَ بِغَدِيْرِ الْأَشْطَاطِ أَتَاهُ عَيْنُهُ قَالَ إِنَّ قُرَيْشًا جَمَعُوْا لَكَ جُمُوْعًا وَقَدْ جَمَعُوْا لَكَ الْأَحَابِيْشَ وَهُمْ مُقَاتِلُوْكَ وَصَادُّوْكَ عَنِ الْبَيْتِ وَمَانِعُوْكَفَقَالَ أَشِيْرُوْا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيَّ أَتَرَوْنَ أَنْ أَمِيْلَ إِلَى عِيَالِهِمْ وَذَرَارِيِّ هَؤُلَاءِ الَّذِيْنَ يُرِيْدُوْنَ أَنْ يَصُدُّوْنَا عَنِ الْبَيْتِ فَإِنْ يَأْتُوْنَا كَانَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ قَطَعَ عَيْنًا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ وَإِلَّا تَرَكْنَاهُمْ مَحْرُوْبِيْنَ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ يَا رَسُوْلَ اللهِ خَرَجْتَ عَامِدًا لِهَذَا الْبَيْتِ لَا تُرِيْدُ قَتْلَ أَحَدٍ وَلَا حَرْبَ أَحَدٍ فَتَوَجَّهْ لَهُ فَمَنْ صَدَّنَا عَنْهُ قَاتَلْنَاهُ قَالَ امْضُوْا عَلَى اسْمِ اللهِ.
মারওয়ান ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা একে অন্যের চেয়ে অধিক বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বলেন, হুদাইবিয়াহর বছর নবী (ﷺ) এক সহস্রাধিক সাহাবী সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। যখন তাঁরা যুল হুলাইফাহ পৌঁছলেন কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বাঁধলেন, ইশ‘আর করলেন। সেখান থেকে ‘উমরাহর ইহরাম বাঁধলেন এবং খুযাআ গোত্রের এক লোককে গোয়েন্দা হিসেবে পাঠালেন। নবী (ﷺ) নিজেও রওয়ানা হলেন। গাদীরুল আশ্তাত নামক স্থানে পৌঁছলে গোয়েন্দা এসে তাঁকে বলল, কুরাইশরা বিরাট দল নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে। তারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দিবে ও বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।তখন তিনি বললেন, ‘‘হে লোক সকল! তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও, যারা আমাদেরকে বাইতুল্লাহ্য় যেতে বাধা দেয়ার ইচ্ছা করছে, আমি কি তাদের পরিবারবর্গ এবং সন্তান-সন্ততিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব। তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প করে থাকলে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন, যিনি মুশরিকদের থেকে একজন গোয়েন্দাকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছেন। আর যদি তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে তাহলে আমরা তাদের পরিবার এবং অর্থ-সম্পদ থেকে বিরত থাকব এবং তাদেরকে তাদের পরিবার ও অর্থ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।’’তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি তো বাইতুল্লাহর উদ্দেশে বেরিয়েছেন, কাউকে হত্যা করা এবং কারো সঙ্গে লড়াই করার উদ্দেশে তো আসেননি। তাই বাইতুল্লাহর দিকে চলুন। যে আমাদেরকে তা থেকে বাধা দিবে আমরা তার সঙ্গে লড়াই করব। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে চল আল্লাহর নামে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুদাইবিয়ার বছরের বড় একটি ঘটনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) এক সহস্রাধিক সাহাবি নিয়ে উমরার উদ্দেশে বের হন। যুল হুলাইফায় কুরবানির পশুর গলায় কিলাদা বাঁধেন, ইশআর করেন এবং উমরার ইহরাম বাঁধেন। পরে খুযাআ গোত্রের একজনকে খবর আনার জন্য পাঠানো হয়। খবর আসে, কুরাইশরা বড় দল জড়ো করেছে এবং বাইতুল্লাহয় যেতে বাধা দেবে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) লোকদের কাছে পরামর্শ চান। আবু বকর (রাঃ) বলেন, আপনি তো বাইতুল্লাহর উদ্দেশে বেরিয়েছেন; কাউকে হত্যা বা যুদ্ধ করার উদ্দেশে আসেননি। তাই বাইতুল্লাহর দিকে চলুন, আর কেউ বাধা দিলে লড়াই করা হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আল্লাহর নামে চল। এই হাদিসে উদ্দেশ্য পরিষ্কার রাখা, খবর যাচাই, পরামর্শ করা এবং আল্লাহর নামে এগোনোর শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم উমরার উদ্দেশ্য পরিষ্কার রেখে সফর শুরু করেছিলেন।
- বড় সিদ্ধান্তে পরামর্শ নেওয়া একটি সুন্দর শিক্ষা।
- শত্রুর খবর পেলেও উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
- কাজ শুরু করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া মুমিনের ভরসা।
