৬৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৭৭ - সূরা ফাতহ নাজিল ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর আনন্দ
হুদাইবিয়ার যুদ্ধ।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: মুমিনগণ যখন গাছের তলে আপনার নিকট বাই‘আত গ্রহণ করল তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন ........। (সূরা ফাতহ ৪৮/১৮)"
সূরা ফাতহ নাজিল: উমর রাঃ-এর সতর্কতা ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর আনন্দ
সহীহ বুখারী : ৪১৭৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৭৭
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَسِيْرُ فِيْ بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسِيْرُ مَعَهُ لَيْلًا فَسَأَلَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَنْ شَيْءٍ فَلَمْ يُجِبْهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ وَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا عُمَرُ نَزَرْتَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ لَا يُجِيْبُكَ قَالَ عُمَرُ فَحَرَّكْتُ بَعِيْرِيْ ثُمَّ تَقَدَّمْتُ أَمَامَ الْمُسْلِمِيْنَ وَخَشِيْتُ أَنْ يَنْزِلَ فِيَّ قُرْآنٌ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِيْ قَالَ فَقُلْتُ لَقَدْ خَشِيْتُ أَنْ يَكُوْنَ نَزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ وَجِئْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ اللَّيْلَةَ سُوْرَةٌ لَهِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَرَأَ﴾إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِيْنًا﴿.
আসলাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোন এক সফরে রাত্রিকালে চলছিলেন। এ সফরে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও তাঁর সঙ্গে চলছিলেন। ‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন উত্তর করলেন না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তিনি এবারও জবাব দিলেন না। এরপর আবার তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এবারও উত্তর দিলেন না। তখন ‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) মনে মনে বললেন, হে ‘উমর! তোমাকে তোমার মা হারিয়ে ফেলুক! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তিনবার বিরক্ত করলে। কিন্তু কোনবারই তিনি তোমাকে জবাব দেননি।‘উমর (রাঃ) বললেন, এরপর আমি আমার উটকে তাড়িয়ে মুসলিমদের সম্মুখে চলে যাই। কারণ আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, হয়তো আমার ব্যাপারে কোরআন মাজীদের কোন আয়াত অবতীর্ণ হতে পারে। অধিক দেরি হয়নি এমন সময় শুনতে পেলাম এক লোক চিৎকার করে আমাকে ডাকছে। ‘উমর (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমার ব্যাপারে হয়তো কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এ ভেবে আমি ভীত হয়ে পড়লাম।অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে সালাম করলাম। তখন তিনি বললেন, আজ রাতে আমার প্রতি এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার কাছে যার উপর সূর্য উদিত হয় তার থেকেও অধিক প্রিয়। তারপর তিনি إِناَّ فَتَحْنَ لَكَ فَتْحًا مُبِيْنًا পাঠ করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের একটি ঘটনা আছে। রাতে চলার সময় উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে এক বিষয়ে তিনবার জিজ্ঞেস করেন, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) উত্তর দেননি। তখন উমর (রাঃ) নিজের ওপর ভয় পেলেন এবং ভাবলেন, তিনি হয়তো রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বিরক্ত করেছেন। তিনি সামনে চলে যান এবং আশঙ্কা করেন, তাঁর ব্যাপারে কোনো আয়াত নাজিল হতে পারে। পরে তাঁকে ডাকা হয়। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে সালাম দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আজ রাতে তাঁর উপর এমন একটি সূরা নাজিল হয়েছে, যা তাঁর কাছে সূর্যের আলো পড়া সব কিছুর চেয়েও প্রিয়। তারপর তিনি সূরা ফাতহের শুরু পড়েন। এই হাদিসে আদব, ভয়, ওহীর মর্যাদা এবং সূরা ফাতহের বিশেষ আনন্দ একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে কথা বলার আদব সাহাবীরা খুব গুরুত্ব দিতেন।
- ভুলের আশঙ্কা হলে নিজের হিসাব নেওয়া ভালো।
- সূরা ফাতহ নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল বলে বর্ণনায় এসেছে।
- ওহী নাজিলের খবর সাহাবীদের মনে গভীর প্রভাব ফেলত।
