৬৬/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০১২ - সূরা আল-ফাতহ নাযিলের আনন্দ
সূরা আল-ফাতহের ফজিলত।
সূরা আল-ফাতহ নাযিলের ঘটনা ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর আনন্দ
সহীহ বুখারী : ৫০১২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০১২
إِسْمَاعِيْلُ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَسِيْرُ فِيْ بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسِيْرُ مَعَهُ لَيْلًا فَسَأَلَهُ عُمَرُ عَنْ شَيْءٍ فَلَمْ يُجِبْهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ فَقَالَ عُمَرُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ نَزَرْتَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلَّ ذَلِكَ لَا يُجِيْبُكَ قَالَ عُمَرُ فَحَرَّكْتُ بَعِيْرِيْ حَتَّى كُنْتُ أَمَامَ النَّاسِ وَخَشِيْتُ أَنْ يَنْزِلَ فِيَّ قُرْآنٌ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِيْ قَالَ فَقُلْتُ لَقَدْ خَشِيْتُ أَنْ يَكُوْنَ نَزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ قَالَ فَجِئْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ اللَّيْلَةَ سُوْرَةٌ لَهِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَرَأَ ﴾إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِيْنًا﴿.
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন এক সফরে রাত্রিকালে চলছিলেন এবং ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তখন ‘উমর (রাঃ) তাঁর কাছে কিছু জিজ্ঞেস করলেন; কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার কোন উত্তর দিলেন না। তারপর আবার জিজ্ঞেস করলেন; কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এবারও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। এমন সময় ‘উমর (রাঃ) নিজেকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! তুমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে তিনবার প্রশ্ন করে কোন উত্তর পাওনি।‘উমর (রাঃ) বললেন, এরপর আমি আমার উটকে দ্রুত হাঁকিয়ে লোকেদের অগ্রভাগে চলে গেলাম এবং আমি শঙ্কিত হলাম, না জানি আমার সম্পর্কে কোরআন অবতীর্ণ হয় নাকি। কিছুক্ষণ পর কেউ আমাকে ডাকছে, এ রকম আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি মনে আশঙ্কা করলাম যে, হয়তো আমার ব্যাপারে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আমি নবী (ﷺ)-এর নিকটে গেলাম এবং তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন আজ রাতে আমার উপর এমন একটি সূরা নাযিল হয়েছে, যা আমার কাছে সূর্যালোকিত সকল স্থান হতে উত্তম।এরপর তিনি পাঠ করলেন, إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِيْنً ‘‘নিশ্চয় আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।’’
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ও উমর রাঃ-এর এক রাতের সফরের ঘটনা এসেছে। উমর রাঃ রাসূল صلى الله عليه وسلم-কে তিনবার প্রশ্ন করলেন, কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। এতে উমর রাঃ নিজের ব্যাপারে চিন্তিত হলেন এবং আশঙ্কা করলেন, না জানি তাঁর সম্পর্কে কুরআন নাযিল হয়। তিনি সামনে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর তাঁকে ডাকা হলো। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে সালাম করলেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, আজ রাতে তাঁর ওপর এমন একটি সূরা নাযিল হয়েছে, যা তাঁর কাছে সূর্যের আলো পড়া সবকিছুর চেয়েও প্রিয়। এরপর তিনি পড়লেন, “নিশ্চয় আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।” হাদিসটি সূরা আল-ফাতহ নাযিলের আনন্দ এবং সাহাবীদের সংবেদনশীলতা দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা নিজের আচরণ নিয়ে আল্লাহর সামনে ভয় করতেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর সূরা নাযিল হওয়া বড় আনন্দের বিষয় ছিল।
- সূরা আল-ফাতহকে এই বর্ণনায় খুব প্রিয় সূরা বলা হয়েছে।
- প্রশ্নের উত্তর না পেলে উমর রাঃ নিজের হিসাব নিয়েছেন।
