৬৪/৪৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪২৫৬ - তাওয়াফে রমলের কারণ
উমরাহ কাযার বর্ণনা
ذَكَرَهُ أَنَسٌ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ.আনাস (রাঃ) নবী (ﷺ) থেকে তা বর্ণনা করেছেন।"
তাওয়াফে রমল: শক্তি দেখানো ও সহজতার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪২৫৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪২৫৬
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَدِمَ رَسُوْلُ اللَّه ﷺ وَأَصْحَابُهُ فَقَالَ الْمُشْرِكُوْنَ إِنَّهُ يَقْدَمُ عَلَيْكُمْ وَفْدٌ وَهَنَهُمْ حُمَّى يَثْرِبَ وَأَمَرَهُمْ النَّبِيُّ ﷺ أَنْ يَرْمُلُوا الْأَشْوَاطَ الثَلَاثَةَ وَأَنْ يَمْشُوْا مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ وَلَمْ يَمْنَعْهُ أَنْ يَأْمُرَهُمْ أَنْ يَرْمُلُوا الْأَشْوَاطَ كُلَّهَا إِلَّا الإِبْقَاءُ عَلَيْهِمْقَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ وَزَادَ ابْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ لِعَامِهِ الَّذِي اسْتَأْمَنَ قَالَ ارْمُلُوْا لِيَرَى الْمُشْرِكُوْنَ قُوَّتَهُمْ وَالْمُشْرِكُوْنَ مِنْ قِبَلِ قُعَيْقِعَانَ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ ('উমরাহ্তুল কাযা আদায়ের জন্য) আগমন করলে মুশরিকরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল যে, তোমাদের সামনে একদল লোক আসছে, ইয়াসরিবের জ্বর [৬১] যাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। এজন্য নবী (ﷺ) সাহাবীগণকে প্রথম তিন চক্করে হেলে দুলে চলার জন্য এবং দু' রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্দেশ দেন। অবশ্য তিনি তাঁদেরকে সবকটি চক্করেই হেলে দুলে চলার আদেশ করতেন। কিন্তু তাঁদের প্রতি তাঁর অনুভূতিই কেবল তাঁকে এ হুকুম দেয়া থেকে বিরত রেখেছিল।অন্য এক সানাদে ইবনু সালামাহ (রহঃ) আইয়ুব ও সা'ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)-এর মাধ্যমে ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (সন্ধি সম্পাদনের মাধ্যমে) নিরাপত্তা প্রাপ্ত বছরে যখন নবী (ﷺ) (মক্কায়) আগমন করলেন তখন বললেন, তোমরা মুশরিকদেরকে তোমাদের শক্তিমত্তা দেখানোর জন্য হেলে দুলে তাওয়াফ করো। এ সময় মুশরিকরা কুআয়কিআন পর্বতের দিক থেকে মুসলিমদেরকে দেখছিল।
[৬১] মাদীনাহকেই ইয়াসরিব বলা হতো। মুশরিকরা মনে করেছিল মাদীনার জ্বরে মুসলিমরা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই মুসলিমদের দুর্বল বা হীনবল হয়ে না পড়াটা প্রকাশের জন্য নবী (ﷺ) তাঁদের শরীর হেলিয়ে দুলিয়ে বীরত্ব সহকারে তাওয়াফ করার নির্দেশ দেন। একেই রামল বলা হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪২৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমরাতুল কাযার সময় তাওয়াফে রমলের কারণ এসেছে। মুশরিকরা বলছিল, ইয়াসরিবের জ্বর মুসলিমদের দুর্বল করে দিয়েছে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের প্রথম তিন চক্করে হেলে দুলে দ্রুত চলতে বলেন এবং দুই রুকনের মাঝখানে স্বাভাবিকভাবে চলতে বলেন। বর্ণনায় আছে, তিনি চাইলে সব চক্করেই রমল করার নির্দেশ দিতে পারতেন, কিন্তু সাহাবীদের প্রতি মমতার কারণে তা করেননি। অন্য বর্ণনায় এসেছে, মুশরিকরা যেন মুসলিমদের শক্তি দেখে, এ জন্য রমল করা হয়। এই হাদিসে শক্তি প্রকাশ ও সহজতার ভারসাম্য দেখা যায়। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের মনোবল দেখিয়েছেন, আবার তাঁদের কষ্টের দিকও দেখেছেন। তাই তাওয়াফে রমল হাদিস আমাদের শেখায়, সাহস দেখানো দরকার হতে পারে, তবে মানুষের সামর্থ্যও বিবেচনায় রাখতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রয়োজনে মুসলিমদের শক্তি ও মনোবল প্রকাশ করা যেতে পারে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের কষ্টের দিক বিবেচনা করেছেন।
- ইবাদতে নির্দেশ থাকলেও সহজতার দিক হাদিসে দেখা যায়।
- শত্রুর ভুল ধারণার জবাব কাজের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল।
