৬৪/৫৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৩০ - আনসারদের মর্যাদা ও ধৈর্যের শিক্ষা
তায়িফের যুদ্ধ
فِي شَوَّالٍ سَنَةَ ثَمَانٍ قَالَهُ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَমূসা ইবন ‘উকবা (রহঃ) বলেছেন এ যুদ্ধ অষ্টম হিজরীর শাওয়াল মাসে সংঘটিত হয়েছে।"
আনসারদের মর্যাদা: গনীমতের বদলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সান্নিধ্য
সহীহ বুখারী : ৪৩৩০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৩০
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَمْرُوْ بْنُ يَحْيَى عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيْمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ قَالَ لَمَّا أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُوْلِهِ ﷺ يَوْمَ حُنَيْنٍ قَسَمَ فِي النَّاسِ فِي الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَلَمْ يُعْطِ الْأَنْصَارَ شَيْئًا فَكَأَنَّهُمْ وَجَدُوْا إِذْ لَمْ يُصِبْهُمْ مَا أَصَابَ النَّاسَفَخَطَبَهُمْ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَلَمْ أَجِدْكُمْ ضُلَّالًا فَهَدَاكُمْ اللهُ بِيْ وَكُنْتُمْ مُتَفَرِّقِيْنَ فَأَلَّفَكُمْ اللهُ بِيْ وَعَالَةً فَأَغْنَاكُمْ اللهُ بِيْ كُلَّمَا قَالَ شَيْئًا قَالُوا اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَمَنُّ قَالَ مَا يَمْنَعُكُمْ أَنْ تُجِيْبُوْا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ كُلَّمَا قَالَ شَيْئًا قَالُوا اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَمَنُّقَالَ لَوْ شِئْتُمْ قُلْتُمْ جِئْتَنَا كَذَا وَكَذَا أَتَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالشَّاةِ وَالْبَعِيْرِ وَتَذْهَبُوْنَ بِالنَّبِيِّ ﷺ إِلَى رِحَالِكُمْ لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرًَا مِنَ الْأَنْصَارِ وَلَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَشِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الْأَنْصَارِ وَشِعْبَهَا الْأَنْصَارُ شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدِيْ أُثْرَةً فَاصْبِرُوْا حَتَّى تَلْقَوْنِيْ عَلَى الْحَوْضِ.
আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আসিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুনাইনের দিবসে আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে গানীমাতের সম্পদ দান করলেন তখন তিনি ঐগুলো সেসব মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন যাদের হৃদয়কে ঈমানের উপর সুদৃঢ় করার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেছিলেন। আর আনসারগণকে কিছুই দিলেন না। ফলে তাঁরা যেন নাখোশ হয়ে গেলেন। কেননা অন্যেরা যা পেয়েছে তাঁরা তা পাননি। অথবা তিনি বলেছেনঃ তাঁরা যেন দুঃখিত হয়ে গেলেন। কেননা অন্যেরা যা পেয়েছে তাঁরা তা পাননি।কাজেই নবী (ﷺ) তাঁদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে আনসারগণ! আমি কি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট পাইনি, অতঃপর আল্লাহ আমার দ্বারা তোমাদের হিদায়াত দান করেছেন? তোমরা ছিলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে পরস্পরকে জুড়ে দিয়েছেন। তোমরা ছিলে দরিদ্র, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। এভাবে যখনই তিনি কোন কথা বলেছেন তখন আনসারগণ জবাবে বলেছেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহ্সানকারী। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্র রাসূলের জবাব দিতে তোমাদেরকে বাধা দিচ্ছে কিসে? তাঁরা তখনও তিনি যা কিছু বলেছেন তার উত্তরে বলে যাচ্ছেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহ্সানকারী।তিনি বললেন, তোমরা ইচ্ছা করলে বলতে পার যে, আপনি আমাদের কাছে এমন এমন (সংকটময়) সময়ে এসেছিলেন কিন্তু তোমরা কি কথায় সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক বক্রী ও উট নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহ্র নবীকে সঙ্গে নিয়ে। যদি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আমাকে হিজরাত করানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত না থাকত তা হলে আমি আনসারদের মধ্যকারই একজন থাকতাম। যদি লোকজন উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলে তা হলে আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়েই চলব।আনসারগণ হল (নাববী) ভিতরের পোশাক আর অন্যান্য লোক হল উপরের পোশাক। আমার বিদায়ের পর অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে অন্যদের অগ্রাধিকার। তখন ধৈর্য ধারণ করবে (দ্বীনের উপর টিকে থাকবে) যে পর্যন্ত না তোমরা হাউজে কাউসারে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ কর।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুনাইনের গনীমত বণ্টনের পর আনসারদের মনের অবস্থা ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর সান্ত্বনা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم কিছু নতুন মুসলিমের হৃদয় ইসলামের দিকে দৃঢ় করার জন্য তাদেরকে সম্পদ দেন, কিন্তু আনসারদের দেননি। এতে তাঁদের মনে কষ্ট আসে। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁদের ডেকে আল্লাহর হিদায়াত, ঐক্য ও অভাবমুক্তির কথা স্মরণ করান। তারপর বলেন, লোকেরা বকরী ও উট নিয়ে যাবে, আর তোমরা নবী صلى الله عليه وسلم-কে নিয়ে ঘরে ফিরবে—এতে কি সন্তুষ্ট নও? তিনি আনসারদের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে অন্যদের অগ্রাধিকার দেখলে ধৈর্য ধরতে বলেন। এই হাদিস “আনসারদের মর্যাদা”, “ধৈর্য”, “হাউজে কাউসার” বিষয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদের চেয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সান্নিধ্য আনসারদের জন্য বড় সম্মান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
- মন খারাপ হলে নেতা ভালোভাবে কথা বলে তা দূর করতে পারেন।
- আনসারদের প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।
- অন্যদের অগ্রাধিকার দেখলে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ এসেছে।
