৬৪/৬৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৬৭ - নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে আওয়াজ উঁচু না করার শিক্ষা
পরিচ্ছেদ নেই
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ غَزْوَةُ عُيَيْنَةَ بْنِ حِصْنِ بْنِ حُذَيْفَةَ بْنِ بَدْرٍ بَنِي الْعَنْبَرِ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ بَعَثَهُ النَّبِيُّ ﷺ إِلَيْهِمْ فَأَغَارَ وَأَصَابَ مِنْهُمْ نَاسًا وَسَبَى مِنْهُمْ نِسَاءً.বনূ তামীমের উপগোত্র বনূ আমবার-এর বিরুদ্ধে ‘উয়াইনা ইবন হিসন ইবন হুযাইফা ইবন বদরের যুদ্ধ। ইবন ইসহাক (রহঃ) বলেন, নবী (ﷺ) ‘উয়াইনা (রাঃ)-কে এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তারপর তিনি রাতের শেষ ভাগে তাদের উপর আক্রমণ চালিয়ে কিছু লোককে হত্যা করেন এবং তাদের মহিলাদেরকে বন্দী করেন।"
নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে আদব: কণ্ঠস্বর নিচু রাখার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৩৬৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৬৭
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ أَخْبَرَهُمْ أَنَّهُ قَدِمَ رَكْبٌ مِنْ بَنِيْ تَمِيْمٍ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ أَمِّرْ الْقَعْقَاعَ بْنَ مَعْبَدِ بْنِ زُرَارَةَ قَالَ عُمَرُ بَلْ أَمِّرْ الْأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ مَا أَرَدْتَ إِلَّا خِلَافِيْ قَالَ عُمَرُ مَا أَرَدْتُ خِلَافَكَ فَتَمَارَيَا حَتَّى ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فَنَزَلَ فِيْ ﴾ذٰلِكَ يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُقَدِّمُوْا﴿ حَتَّى انْقَضَتْ.
'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বানী তামীম গোত্র থেকে একটি অশ্বারোহী দল নবী (ﷺ)-এর দরবারে আসল। আবূ বাকর (রাঃ) প্রস্তাব দিলেন, কা'কা ইবনু মা'বাদ ইবনু যারারা (রাঃ)-কে এদের আমীর নিযুক্ত করে দিন। 'উমর (রাঃ) বললেন, বরং আকরা ইবনু হাবিস (রাঃ)-কে আমীর বানিয়ে দিন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমার বিরোধিতা করাই তোমার উদ্দেশ্য। 'উমর (রাঃ) বললেন, আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছা আমি কখনো করি না। এর উপর দু'জনের বাক-বিতণ্ডা চলতে চলতে শেষ পর্যায়ে উভয়ের আওয়াজ উঁচু হয়ে গেল।ফলে এ সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হল, “হে মুমিনগণ! আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সামনে তোমরা কোন ব্যাপারে অগ্রবর্তী হয়ো না। বরং আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চৈঃস্বরে কথা বল তাঁর সঙ্গে সেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো না। কারণ এতে তোমাদের 'আমাল নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে”- (সূরা আল-হুজুরাত ৪৯/১-২)।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে কথা বলার আদব শেখানো হয়েছে। বানু তামীমের একটি দল এলে তাদের আমীর নিযুক্ত করা নিয়ে আবু বকর রাঃ ও উমর রাঃ ভিন্ন মত দেন। আবু বকর রাঃ একজনের নাম বলেন, উমর রাঃ অন্যজনের নাম বলেন। এরপর কথাবার্তা বাড়তে থাকে এবং দুজনের আওয়াজ উঁচু হয়ে যায়। তখন এ বিষয়ে সূরা হুজুরাতের আয়াত নাজিল হয়, যেখানে আল্লাহ মুমিনদের বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না। হাদিসটির শিক্ষা হলো, মতভেদ হতে পারে, কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে আদবের সীমা ছাড়ানো যাবে না। দ্বীনের আলোচনায় কণ্ঠস্বর, ভঙ্গি ও অন্তরের ভয়—সবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মতভেদ হলেও আদব ও সংযম রাখা দরকার।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর মর্যাদার সামনে নিজের কথা বড় করে তোলা উচিত নয়।
- দ্বীনের বিষয়ে কথা বলার সময় আল্লাহকে ভয় করা জরুরি।
- ভুল হলে ওহীর নির্দেশ শুনে নিজেকে সংশোধন করা মুমিনের গুণ।
