৬৫/৩০১. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৪৫ - নবীর সামনে কণ্ঠস্বরের আদব

আল্লাহর বাণী: ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা উঁচু করো না তোমাদের কণ্ঠস্বর নবীর কণ্ঠস্বরের উপর। (সূরা হুজুরাত ৪৯/২)

নবীর সামনে কণ্ঠস্বর নিচু রাখা: সূরা হুজুরাতের আদব

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৪৫

يَسَرَةُ بْنُ صَفْوَانَ بْنِ جَمِيْلٍ اللَّخْمِيُّ حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَالَ كَادَ الْخَيِّرَانِ أَنْ يَهْلِكَا أَبُوْ بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا رَفَعَا أَصْوَاتَهُمَا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ حِيْنَ قَدِمَ عَلَيْهِ رَكْبُ بَنِيْ تَمِيْمٍ فَأَشَارَ أَحَدُهُمَا بِالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ أَخِيْ بَنِيْ مُجَاشِعٍ وَأَشَارَ الْآخَرُ بِرَجُلٍ آخَرَ قَالَ نَافِعٌ لَا أَحْفَظُ اسْمَهُفَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ لِعُمَرَ مَا أَرَدْتَ إِلَّا خِلَافِيْ قَالَ مَا أَرَدْتُ خِلَافَكَ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فِيْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللهُ ﴾يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَرْفَعُوْآ أَصْوَاتَكُمْ﴿ الْآيَةَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ فَمَا كَانَ عُمَرُ يُسْمِعُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ حَتَّى يَسْتَفْهِمَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ ذَلِكَ عَنْ أَبِيْهِ يَعْنِيْ أَبَا بَكْرٍ.

ইব্‌নু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

উত্তম দু’ ব্যক্তি- আবূ বাক্র ও ‘উমর (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর কাছে কণ্ঠস্বর উঁচু করে ধ্বংস হওয়ার দ্বার প্রান্তে উপনীত হয়েছিলেন। যখন বানী তামীম গোত্রের একদল লোক নবী (ﷺ)-এর কাছে এসেছিল। তাদের একজন বানী মাজাশে গোত্রের আকরা ইব্‌নু হাবিসকে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব করল এবং অপরজন অন্য জনের নাম প্রস্তাব করল। নাফি বলেন, এ লোকটির নাম আমার মনে নেই।তখন আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) ‘উমর (রাঃ)-কে বললেন, আপনার ইচ্ছে হলো কেবল আমার বিরোধিতা করা। তিনি বললেন, না, আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছে আমার নেই। এ ব্যাপারটি নিয়ে তাঁদের আওয়াজ উঁচু হয়ে গেল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, “হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর গলার আওয়াজের উপর নিজেদের গলার আওয়াজ উঁচু করবে না”.....শেষ পর্যন্ত। ইব্‌নু যুবায়র (রাঃ) বলেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর ‘উমর (রাঃ) এ তো আস্তে কথা বলতেন যে, দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা শুনতে পেতেন না। তিনি আবূ বাক্র (রাঃ) সম্পর্কে এমন কথা বর্ণনা করেননি।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৪৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে কথা বলার আদব। বনি তামীমের প্রতিনিধি দল এলে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) দুজন ভিন্ন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এ নিয়ে তাঁদের কথা বাড়ে এবং কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে যায়। তখন আল্লাহ আয়াত নাজিল করেন: মুমিনরা যেন নবীর কণ্ঠের ওপর নিজেদের কণ্ঠ উঁচু না করে। এরপর উমর (রাঃ) এত নিচু স্বরে কথা বলতেন যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কখনো কখনো আবার জিজ্ঞেস করতেন। হাদিসটি “নবীর সামনে আদব”, “কণ্ঠস্বর নিচু রাখা” ও “সূরা হুজুরাতের শিক্ষা” বিষয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে বড় সাহাবীদের দ্রুত সংশোধনের সুন্দর দৃষ্টান্ত দেখা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে কণ্ঠস্বর উঁচু করা থেকে সতর্ক থাকতে হয়।
  • ভুল বুঝতে পারলে দ্রুত নিজেকে সংশোধন করা উচিত।
  • সাহাবীদের মতবিরোধও আদবের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।
  • কুরআনের নির্দেশ সাহাবীদের আচরণে সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন