১/৫২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৪ - নবীর প্রতি আদব ও সাবিতের সুসংবাদ
‘আমাল বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে মু‘মিনের আশঙ্কা
নবীর প্রতি আদব: সাবিত (রাঃ)-এর ভয় ও জান্নাতের সুসংবাদ
সহীহ মুসলিম : ২১৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২১৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ جَلَسَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ فِي بَيْتِهِ وَقَالَ أَنَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ . وَاحْتَبَسَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ فَسَأَلَ النَّبِيُّ ﷺ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ فَقَالَ " يَا أَبَا عَمْرٍو مَا شَأْنُ ثَابِتٍ أَشْتَكَى " . قَالَ سَعْدٌ إِنَّهُ لَجَارِي وَمَا عَلِمْتُ لَهُ بِشَكْوَى.قَالَ فَأَتَاهُ سَعْدٌ فَذَكَرَ لَهُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ ثَابِتٌ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ وَلَقَدْ عَلِمْتُمْ أَنِّي مِنْ أَرْفَعِكُمْ صَوْتًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَنَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ . فَذَكَرَ ذَلِكَ سَعْدٌ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " بَلْ هُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ " .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন এ আয়াত নাযিল হলো, “হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠের উপর নিজেদের কণ্ঠ উঁচু করবে না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চৈঃস্বরে কথা বল তাঁর সাথে সেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বলবে না; এতে তোমাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে অথচ তোমরা টেরও পাবে না”- (সূরা আল হুজুরাত ৪৯ : ২)।তখন সাবিত (রাঃ) নিজের ঘরে বসে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, আমি একজন জাহান্নামী। এরপর থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবী সা’দ ইবনু মু’আযকে সাবিত (রাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বললেন, হে আবূ ‘আম্র! সাবিতের কি হলো? সা’দ (রাঃ) বললেন, সে আমার প্রতিবেশী, তাঁর কোন অসুখ হয়েছে বলে তো জানি না।আনাস (রাঃ) বলেন, পরে সা’দ (রাঃ) সাবিতের কাছে গেলেন এবং তাঁর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর বক্তব্য উল্লেখ করলেন। সাবিত (রাঃ) বলেন, এ আয়াত নাযিল হয়েছে। আর তোমরা জান রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উপর আমার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে উঁচু হয়ে যায়। সুতরাং আমি তো জাহান্নামী। সা’দ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে সাবিতের কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তখন বললেন, না, বরং সে তো জান্নাতী।
ই.ফা. ২১৫; ই.সে. ২২২
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা হুজুরাতের আয়াত নাজিল হওয়ার পর সাবিত (রাঃ)-এর গভীর ভয় ও সতর্কতার কথা এসেছে। আয়াতে বলা হয়েছিল, নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কণ্ঠের উপর নিজেদের কণ্ঠ উঁচু করা যাবে না। সাবিত (রাঃ) ভাবলেন, তাঁর কণ্ঠস্বর নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে উঁচু হয়ে যায়, তাই তিনি নিজের আমল নিয়ে ভয় পেলেন এবং ঘরে বসে গেলেন। তিনি নিজেকে জাহান্নামী ভাবতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর খবর নিলেন। পরে সাবিতের কথা শুনে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বললেন, না, বরং তিনি জান্নাতী। এই হাদিসে নবীর প্রতি আদব, আমল নষ্ট হওয়ার ভয় এবং মুমিনের অন্তরের সংবেদনশীলতা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি আদব ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- সাহাবিরা আমল নষ্ট হওয়ার ভয়কে খুব গুরুত্ব দিতেন।
- নিজের ভুলের আশঙ্কা মানুষকে সতর্ক করে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের অবস্থা খোঁজ নিতেন ও সান্ত্বনা দিতেন।
