২/৩৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪ - তাওহীদ ও অন্তরের ঈমান
ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا﴿ وَقَوْلُهُ ﴾وَزِدْنَاهُمْ هُدًى﴿ ﴾وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا﴿ وَقَالَ ﴾الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ﴿ فَإِذَا تَرَكَ شَيْئًا مِنَ الْكَمَالِ فَهُوَ نَاقِصٌআল্লাহ তা‘আলার বাণী: “আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।” (সূরা কাহফ ১৮/১৩)“যাতে মুমিনদের ঈমান আরো বেড়ে যায়।” (সূরা মুদ্দাসসির ৭৪/৩১)তিনি আরও ইরশাদ করেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।” (সূরা আল-মায়িদা ৫/৩)পূর্ণ জিনিস থেকে কিছু বাদ দেয়া হলে তা অপূর্ণ হয়।
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও অন্তরের ঈমানের গুরুত্ব
সহীহ বুখারী : ৪৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ شَعِيرَةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ بُرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ».قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَبَانُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ حَدَّثَنَا أَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ «مِنْ إِيمَانٍ». مَكَانَ " مِنْ خَيْرٍ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও পুণ্য বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে এবং যে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি গম পরিমাণও পুণ্য বিদ্যমান থাকবে তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।আবূ ‘আবদুল্লাহ বলেন, আবান (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, ক্বাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে নেকী –এর স্থলে ‘ঈমান’ শব্দটি রিওয়ায়াত করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় তাওহীদ ও অন্তরের ঈমান। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে এবং তার অন্তরে যব, গম বা অণু পরিমাণ নেকি বা ঈমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। এখানে তাওহীদের বড় মর্যাদা বোঝানো হয়েছে। তবে হাদিসটি পাপকে হালকা করে দেখার কথা বলে না। বরং বোঝায়, অন্তরের ঈমান মানুষের আখিরাতের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। মুখে কালিমা বলা, অন্তরে ঈমান রাখা এবং ভালো কাজের সম্পর্ক এখানে স্পষ্ট। একজন মুসলিমের জন্য তাই তাওহীদকে হৃদয়ে রাখা, ঈমানকে রক্ষা করা এবং নেকির পথে থাকা খুব দরকার। এ কারণে ঈমানকে শুধু দাবি নয়, অন্তরের সত্য বিশ্বাস ও নেক কাজের সঙ্গে রাখার চেষ্টা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহীদের সাক্ষ্য মানুষের ঈমানের মূল ভিত্তি।
- অন্তরের ঈমানের মূল্য খুব বড়।
- নেকি ও ঈমানকে ছোট মনে করা উচিত নয়।
- হাদিসটি আল্লাহর দয়ার আশা শেখায়, তবে পাপে ঢিলে হতে বলে না।
