৬৪/৮৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৩১ - বৃহস্পতিবারের ঘটনা ও নবীর ওসিয়ত
নবী (ﷺ)-এর রোগ ও তাঁর ওফাত
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴾إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُ مْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করবে। (সূরা আয-যুমার ৩৯/৩০-৩১)وَقَالَ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ."
বৃহস্পতিবারের ঘটনা: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেষ দিকের ওসিয়ত
সহীহ বুখারী : ৪৪৩১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৩১
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَحْوَلِ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَوْمُ الْخَمِيْسِ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيْسِ اشْتَدَّ بِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَجَعُهُ فَقَالَ ائْتُوْنِيْ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوْا بَعْدَهُ أَبَدًا فَتَنَازَعُوْا وَلَا يَنْبَغِيْ عِنْدَ نَبِيٍّ تَنَازُعٌ فَقَالُوْا مَا شَأْنُهُ أَهَجَرَ اسْتَفْهِمُوْهُ فَذَهَبُوْا يَرُدُّوْنَ عَلَيْهِ فَقَالَ دَعُوْنِيْ فَالَّذِيْ أَنَا فِيْهِ خَيْرٌ مِمَّا تَدْعُوْنِيْ إِلَيْهِ وَأَوْصَاهُمْ بِثَلَاثٍ قَالَ أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِيْنَ مِنْ جَزِيْرَةِ الْعَرَبِ وَأَجِيْزُوا الْوَفْدَ بِنَحْوِ مَا كُنْتُ أُجِيْزُهُمْ وَسَكَتَ عَنْ الثَّالِثَةِ أَوْ قَالَ فَنَسِيْتُهَا.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বৃহস্পতিবার! বৃহস্পতিবারের ঘটনা কী? নবী (ﷺ)-এর রোগ-জ্বালা প্রবল হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে এসো, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিয়ে যাই যাতে তোমরা এরপর কখনো বিভ্রান্ত না হও। তখন তাঁরা পরস্পর মতভেদ করতে থাকে। অথচ নবী (ﷺ)-এর সান্নিধ্যে মতভেদ করা শোভনীয় নয়।এরপর কিছু সংখ্যক লোক বললেন, নবী (ﷺ)-এর অবস্থা কেমন? তিনি কি বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন? তোমরা তাঁর কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নাও। এতে তাঁরা নবী (ﷺ)-এর কাছে ব্যাপারটি আবার উত্থাপন করল। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও, তোমরা যে কাজের দিকে আমাকে ডাকছ তার চেয়ে আমি ভাল অবস্থায় অবস্থান আছি। আর নবী (ﷺ) তাঁদের তিনটি ওয়াসীয়াত করলেন-(১) আরব উপদ্বীপ [৯৫] থেকে মুশরিকদের বহিষ্কার করে দিবে,(২) দূতদের সেরূপ সমাদর করবে যেমন আমি করতাম এবং তৃতীয়টি বলা থেকে তিনি চুপ থাকলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তৃতীয়টি আমি ভুলে গেছি।
[৯৫] একদিকে এডেন হতে ইরাক পর্যন্ত অন্যদিকে জেদ্দা হতে সিরিয়া পর্যন্ত আরব উপদ্বীপ বিস্তৃত ছিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে গভীর দুঃখের সঙ্গে স্মরণ করেছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রোগযন্ত্রণা প্রবল হলে তিনি বললেন, কিছু লিখে দিতে চান, যাতে পরে তারা বিভ্রান্ত না হয়। কিন্তু উপস্থিত লোকদের মধ্যে মতভেদ শুরু হয়। হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সান্নিধ্যে মতভেদ করা শোভনীয় নয়। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের নিজের অবস্থায় থাকতে দিতে বলেন। এরপর তিনি তিনটি ওসিয়তের কথা বলেন: আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করা, প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সম্মান করা যেমন তিনি করতেন, আর তৃতীয়টি বর্ণনাকারীর কাছে স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত হয়নি বা ভুলে গেছেন। এই হাদিস থেকে আদব, মতভেদ এড়ানো এবং নবীর ওসিয়তের গুরুত্ব বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে মতভেদ ও বাক-বিতণ্ডা করা শোভনীয় নয়।
- গুরুতর অবস্থায়ও নবী (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের পথনির্দেশ নিয়ে চিন্তা করেছেন।
- প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সম্মান করার শিক্ষা হাদিসে এসেছে।
- বর্ণনায় যা স্পষ্ট নয়, তা নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।
