৬৪/৮৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৩৫ - দুনিয়া ও আখিরাতের পছন্দ
নবী (ﷺ)-এর রোগ ও তাঁর ওফাত
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴾إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُ مْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করবে। (সূরা আয-যুমার ৩৯/৩০-৩১)وَقَالَ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ."
দুনিয়া ও আখিরাতের পছন্দ: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেষ রোগের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৪৩৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৩৫
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَعْدٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَسْمَعُ أَنَّهُ لَا يَمُوْتُ نَبِيٌّ حَتَّى يُخَيَّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَسَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ فِيْ مَرَضِهِ الَّذِيْ مَاتَ فِيْهِ وَأَخَذَتْهُ بُحَّةٌ يَقُوْلُ ﴾مَعَ الَّذِيْنَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ﴿ الْآيَةَ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ خُيِّرَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি এ কথা শুনেছিলাম যে, কোন নবী মারা যান না যতক্ষণ না তাঁকে বলা হয় দুনিয়া বা আখিরাতের একটি বেছে নিতে। যে রোগে নবী (ﷺ) ইন্তেকাল করেন সে রোগে আমি নবী (ﷺ)-কে যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় বলতে শুনেছি, তাঁদের সঙ্গে যাঁদের প্রতি আল্লাহ তা'আলা নিয়ামত প্রদান করেছেন- [তাঁরা হলেন- নবী (আঃ)-গণ, সিদ্দীকগণ এবং শহীদগণ] (সূরা আন-নিসা ৪/৬৯)। তখন আমি ধারণা করলাম যে, তাঁকেও একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি শুনেছিলেন কোনো নবী মারা যান না, যতক্ষণ না তাঁকে দুনিয়া বা আখিরাতের মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেষ রোগে তিনি তাঁকে কষ্টের অবস্থায় একটি আয়াত পড়তে শুনলেন, যেখানে আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের সঙ্গে থাকার কথা আছে। তখন আয়িশা (রাঃ) ধারণা করলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-কেও বেছে নিতে বলা হয়েছে। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আখিরাত, নবীদের সম্মান এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেষ সময়। হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর উপলব্ধি এসেছে; তাই ব্যাখ্যায় এটিকে তাঁর বোঝাপড়া হিসেবে বলা দরকার। এটি আমাদের মনে করায়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দৃষ্টি দুনিয়ার বাইরে আল্লাহর নৈকট্য ও আখিরাতের দিকে ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীদের মৃত্যুর আগে বিশেষ পছন্দের কথা আয়িশা (রাঃ) শুনেছিলেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেষ রোগে আখিরাতের দিকে মনোযোগ প্রকাশ পেয়েছে।
- আয়িশা (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার মর্ম বুঝতে চেষ্টা করতেন।
- দুনিয়ার জীবন শেষ হলেও আখিরাত মুমিনের বড় আশা।
