৬৫/৪০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫১৪ - ইসলামের পাঁচ ভিত্তি ও ফিতনার ব্যাখ্যা
মহান আল্লাহর বাণীঃ
ইসলামের পাঁচ ভিত্তি ও ফিতনার সময় ইবনু উমর (রাঃ)-এর জবাব
সহীহ বুখারী : ৪৫১৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫১৪
وَزَادَ عُثْمَانُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ فُلَانٌ وَحَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَمْرٍو الْمَعَافِرِيِّ أَنَّ بُكَيْرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَهُ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى ابْنَ عُمَرَ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ تَحُجَّ عَامًا وَتَعْتَمِرَ عَامًا وَتَتْرُكَ الْجِهَادَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَقَدْ عَلِمْتَ مَا رَغَّبَ اللهُ فِيْهِ قَالَ يَا ابْنَ أَخِيْ بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ إِيْمَانٍ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ وَالصَّلَاةِ الْخَمْسِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَأَدَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِّ الْبَيْتِ قَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَا تَسْمَعُ مَا ذَكَرَ اللهُ فِيْ كِتَابِهِ ﴾وَإِنْ طَآئِفَتٰنِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا فَأَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا ج فَإِنْمبَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرٰى فَقَاتِلُوا الَّتِيْ تَبْغِيْ حَتّٰى تَفِيْٓءَ إِلٰٓى أَمْرِ اللهِ﴿ وَ﴾قَاتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ﴿ قَالَ فَعَلْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَكَانَ الإِسْلَامُ قَلِيْلًا فَكَانَ الرَّجُلُ يُفْتَنُ فِيْ دِيْنِهِ إِمَّا قَتَلُوْهُ وَإِمَّا يُعَذِّبُوْنَهُ حَتَّى كَثُرَ الإِسْلَامُ فَلَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি ইবনু ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! কী কারণে আপনি এক বছর হজ্জ করেন এবং এক বছর ‘উমরাহ করেন অথচ আল্লাহ্র পথে জিহাদ ত্যাগ করেছেন? আপনি পরিজ্ঞাত আছেন যে, আল্লাহ এ বিষয়ে জিহাদ সম্পর্কে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা! ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে পাঁচটি বস্তুর উপর ঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর প্রতি ঈমান আনা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রতিষ্ঠা, রমাযানের সাওম পালন, যাকাত প্রদান এবং বাইতুল্লাহ্র হজ্জ পালন। তখন সে ব্যক্তি বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে কী বর্ণনা করেছেন তা কি আপনি শুনেননি?وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللهِ “আর যদি মু‘মিনদের দু’টি দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের উপর বাড়াবাড়ি করে, তবে তোমরা যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহ্র হুকুমের দিকে ফিরে আসে। ” (সূরা আল-হুজরাত ৪৯/৯)قَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ (এ আয়াতগুলো শ্রবণ করার পর) ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, আমরা এ কাজ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে করেছি এবং তখন ইসলামের অনুসারীর দল স্বল্প সংখ্যক ছিল। যদি কোন লোক দ্বীন সম্পর্কে ফিতনায় নিপতিত হত তখন হয় তাকে হত্যা করা হত অথবা শাস্তি প্রদান করা হত। এভাবে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আর কোন ফিতনা রইল না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি ইবনু উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি এক বছর হজ্জ করেন, এক বছর উমরা করেন, অথচ আল্লাহর পথে জিহাদ ত্যাগ করেন। উত্তরে ইবনু উমর (রাঃ) ইসলামের পাঁচ ভিত্তির কথা বলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রমযানের সাওম, যাকাত এবং হজ্জ। এরপর লোকটি যুদ্ধ সম্পর্কিত আয়াত উল্লেখ করলে ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে তারা সেই কাজ করেছেন, যখন ইসলামের অনুসারী কম ছিল এবং মানুষ দ্বীনের কারণে ফিতনায় পড়ত, হত্যা বা শাস্তির মুখে পড়ত। পরে ইসলাম বেড়ে গেলে সেই ফিতনা আর রইল না। হাদিসটি ফিতনা, জিহাদ এবং ইসলামের ভিত্তি বোঝার ক্ষেত্রে ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর স্থাপিত—এ কথা হাদিসে এসেছে।
- ইবনু উমর (রাঃ) ফিতনার সময় যুদ্ধের প্রসঙ্গ আলাদা করে ব্যাখ্যা করেছেন।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগের ফিতনা ছিল দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার চাপ ও শাস্তির সঙ্গে যুক্ত।
- ধর্মীয় আয়াত বুঝতে অবস্থা ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করা দরকার।
