৬৫/৭৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৫৬ - তাওরাতের আয়াত গোপন ও রজম
‘‘বলুন, তাওরাত নিয়ে এস এবং তা পাঠ কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’’ (সূরা আলু ইমরান ৩/৯৩)
তাওরাতে রজমের আয়াত গোপন: সত্য প্রকাশের হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৫৫৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫৫৬
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا أَبُوْ ضَمْرَةَ حَدَّثَنَا مُوْسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ الْيَهُوْدَ جَاءُوْا إِلَى النَّبِيِّ ﷺ بِرَجُلٍ مِنْهُمْ وَامْرَأَةٍ قَدْ زَنَيَا فَقَالَ لَهُمْ كَيْفَ تَفْعَلُوْنَ بِمَنْ زَنَى مِنْكُمْ قَالُوْا نُحَمِّمُهُمَا وَنَضْرِبُهُمَا فَقَالَ لَا تَجِدُوْنَ فِي التَّوْرَاةِ الرَّجْمَ فَقَالُوْا لَا نَجِدُ فِيْهَا شَيْئًا فَقَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبْتُمْ ﴾فَأْتُوْا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوْهَآ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ﴿فَوَضَعَ مِدْرَاسُهَا الَّذِيْ يُدَرِّسُهَا مِنْهُمْ كَفَّهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ فَطَفِقَ يَقْرَأُ مَا دُوْنَ يَدِهِ وَمَا وَرَاءَهَا وَلَا يَقْرَأُ آيَةَ الرَّجْمِ فَنَزَعَ يَدَهُ عَنْ آيَةِ الرَّجْمِ فَقَالَ مَا هَذِهِ فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ قَالُوْا هِيَ آيَةُ الرَّجْمِ فَأَمَرَ بِهِمَا فَرُجِمَا قَرِيْبًا مِنْ حَيْثُ مَوْضِعُ الْجَنَائِزِ عِنْدَ الْمَسْجِدِ فَرَأَيْتُ صَاحِبَهَا يَحْنِيْ عَلَيْهَا يَقِيْهَا الْحِجَارَةَ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ব্যভিচার করেছে এমন এক পুরুষ ও এক মহিলা নিয়ে ইয়াহূদীগণ নবী (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হল। নবী (ﷺ) তাদের বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা কীভাবে শাস্তি দাও? তারা বলল, আমরা তাদের দু’জনের চেহারা কালিমালিপ্ত করি এবং তাদের প্রহার করি। রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা তাওরাতে কি প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এ ব্যাপারে কিছুই পাই না। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তাদের বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তাওরাত আন এবং তা পাঠ কর।এরপর তাওরাত পাঠের সময় তাদের তাওরাত-শিক্ষক প্রস্তর নিক্ষেপ সম্পর্কিত আয়াতের উপর স্বীয় হস্ত রেখে তার উপর নীচের অংশ পড়তে লাগল। রজমের কথা লিখা আয়াতটি পড়ছিল না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার হাতটি রজমের আয়াতের উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা কী? যখন তারা এ অবস্থা দেখল তখন বলল, এটি রজমের আয়াত। অনন্তর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন এবং মসজিদের পার্শ্বে জানাযার স্থানের নিকটে উভয়কে ‘রজম’ করা হল। ইবনু ‘উমর (রাঃ) বলেন, আমি সেই পুরুষটিকে দেখলাম তার সঙ্গীনীর উপরে ঝুঁকে পড়ে তাকে প্রস্তরাঘাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, ইয়াহুদীরা ব্যভিচার করা এক পুরুষ ও এক নারীকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে নিয়ে আসে। নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করেন, তারা এমন অপরাধীর কী শাস্তি দেয়। তারা বলে, মুখ কালো করে এবং প্রহার করে। নবী صلى الله عليه وسلم জানতে চান, তাওরাতে কি রজমের বিধান নেই। তারা অস্বীকার করে। তখন আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বলেন, তাওরাত আনো এবং পড়ো। তাওরাত পাঠকারী রজমের আয়াতের উপর হাত রেখে অন্য অংশ পড়ছিল। হাত সরানো হলে রজমের আয়াত প্রকাশ পায়। তারা স্বীকার করে, এটি রজমের আয়াত। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم তাদের রজমের নির্দেশ দেন। এই হাদিসে মূল শিক্ষা হলো, সত্য গোপন করা যায় না এবং আল্লাহর বিধান লুকানো গুরুতর বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মীয় সত্য গোপন করা সঠিক পথ নয়।
- বিচারের সময় প্রমাণ ও মূল লেখা সামনে আনা গুরুত্বপূর্ণ।
- আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) সত্য প্রকাশে স্পষ্ট ভূমিকা রাখেন।
