৬৫/৮৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৭৪ - ইয়াতীম নারীর মাহর ও ন্যায়
‘‘আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করে নাও অন্য নারীদের মধ্য থেকে যাকে তোমাদের মনঃপুত হয়।’’ (সূরা আন-নিসা ৪/৩)
ইয়াতীম নারীর মাহর: বিয়েতে ন্যায্য অধিকার দেওয়ার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৫৭৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫৭৪
عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ قَوْلِ اللهِ تَعَالَى : ﴾وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لَّا تُقْسِطُوْا فِي الْيَتَامٰى﴿ فَقَالَتْ يَا ابْنَ أُخْتِيْ هَذِهِ الْيَتِيْمَةُ تَكُوْنُ فِيْ حَجْرِ وَلِيِّهَا تَشْرَكُهُ فِيْ مَالِهِ وَيُعْجِبُهُ مَالُهَا وَجَمَالُهَا فَيُرِيْدُ وَلِيُّهَا أَنْ يَتَزَوَّجَهَا بِغَيْرِ أَنْ يُقْسِطَ فِيْ صَدَاقِهَا فَيُعْطِيَهَا مِثْلَ مَا يُعْطِيْهَا غَيْرُهُ فَنُهُوْا عَنْ أَنْ يَنْكِحُوْهُنَّ إِلَّا أَنْ يُقْسِطُوْا لَهُنَّ وَيَبْلُغُوْا لَهُنَّ أَعْلَى سُنَّتِهِنَّ فِي الصَّدَاقِ فَأُمِرُوْا أَنْ يَنْكِحُوْا مَا طَابَ لَهُمْ مِنْ النِّسَاءِ سِوَاهُنَّقَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ وَإِنَّ النَّاسَ اسْتَفْتَوْا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ فَأَنْزَلَ اللهُ : ﴾وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ} قَالَتْ عَائِشَةُ : وَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى فِيْ آيَةٍ أُخْرَى : ﴾وَتَرْغَبُوْنَ أَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ} رَغْبَةُ أَحَدِكُمْ عَنْ يَتِيْمَتِهِ حِيْنَ تَكُوْنُ قَلِيْلَةَ الْمَالِ وَالْجَمَالِ قَالَتْ فَنُهُوْا أَنْ يَنْكِحُوْا عَنْ مَنْ رَغِبُوْا فِيْ مَالِهِ وَجَمَالِهِ فِيْ يَتَامَى النِّسَاءِ إِلَّا بِالْقِسْطِ مِنْ أَجْلِ رَغْبَتِهِمْ عَنْهُنَّ إِذَا كُنَّ قَلِيْلَاتِ الْمَالِ وَالْجَمَالِ.
‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন মহান আল্লাহ্র বাণী وَإِنْخِفْتُمْأَنْلاَتُقْسِطُوافِيالْيَتَامَى সম্পর্কে। তিনি উত্তরে বললেন, হে ভাগ্নে! সে হচ্ছে পিতৃহীনা বালিকা, অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তার সম্পত্তিতে অংশীদার হয় এবং তার রূপ ও সম্পদ তাকে (অভিভাবককে) আকৃষ্ট করে।এরপর সেই অভিভাবক উপযুক্ত মাহ্র না দিয়ে তাকে বিবাহ করতে চায়। তদুপরি অন্য ব্যক্তি যে পরিমাণ মাহ্র দেয় তা না দিয়ে এবং তার প্রতি ন্যায়বিচার না করে তাকে বিয়ে করতে চায়। এরপর তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মাহ্র এবং ন্যায় ও সমুচিত মাহ্র প্রদান ব্যতীত তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তদ্ব্যতীত যে সকল মহিলা পছন্দ হয় তাদেরকে বিয়ে করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।‘উরওয়া (রহঃ) বলেন যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন وَيَسْتَفْتُونَكَفِيالنِّسَاءِ “এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে জানতে চান......”।‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র বাণী অন্য এক আয়াতে তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ কর। ইয়াতীম বালিকার ধন-সম্পদ কম হলে এবং সুন্দরী না হলে তাকে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করো না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তাই ইয়াতীম বালিকাদের মাল ও সৌন্দর্যের আকর্ষণে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ন্যায়বিচার করলে ভিন্ন কথা। কেননা তারা সম্পদের অধিকারী না হলে এবং সুন্দরী না হলে তাদেরকেও বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) সূরা নিসার আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। ইয়াতীম মেয়ে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকত এবং তার সম্পদে অভিভাবকের অংশ বা সম্পর্ক থাকত। কখনো তার রূপ ও সম্পদ অভিভাবককে আকৃষ্ট করত। তখন অভিভাবক অন্যদের মতো উপযুক্ত মাহর না দিয়ে তাকে বিয়ে করতে চাইত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, ন্যায়বিচার ও উপযুক্ত মাহর না দিলে তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর যদি অন্য নারী পছন্দ হয়, তাদের বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই ইয়াতীম নারীর অধিকার, মাহর, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং বিয়েতে ন্যায়—এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীম মেয়েকে বিয়ে করলে ন্যায্য মাহর দিতে হবে।
- সম্পদ ও সৌন্দর্যের কারণে অন্যায়ভাবে বিয়ে করা নিষেধ করা হয়েছে।
- অভিভাবকের দায়িত্ব হলো নিজের সুবিধার চেয়ে ইয়াতীমের হক দেখা।
- বিয়ের বিষয়ে ন্যায়বিচার না পারলে অন্য নারীকে বিয়ের কথা আয়াতে এসেছে।
