৬৫/১১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬০২ - নিফাক, তাওবা ও আল্লাহর ক্ষমা
‘‘নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।’’ (সূরা আন-নিসা ৪/১৪৫)
নিফাক ও তাওবা: আল্লাহর দিকে ফিরে আসার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৬০২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬০২
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْمُ عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ كُنَّا فِيْ حَلْقَةِ عَبْدِ اللهِ فَجَاءَ حُذَيْفَةُ حَتَّى قَامَ عَلَيْنَا فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ لَقَدْ أُنْزِلَ النِّفَاقُ عَلَى قَوْمٍ خَيْرٍ مِنْكُمْقَالَ الْأَسْوَدُ سُبْحَانَ اللهِ إِنَّ اللهَ يَقُوْلُ : ﴾إِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ فِي اَلدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ﴿ فَتَبَسَّمَ عَبْدُ اللهِ وَجَلَسَ حُذَيْفَةُ فِيْ نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَقَامَ عَبْدُ اللهِ فَتَفَرَّقَ أَصْحَابُهُ فَرَمَانِيْ بِالْحَصَا فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ حُذَيْفَةُ عَجِبْتُ مِنْ ضَحِكِهِ وَقَدْ عَرَفَ مَا قُلْتُ لَقَدْ أُنْزِلَ النِّفَاقُ عَلَى قَوْمٍ كَانُوْا خَيْرًا مِنْكُمْ ثُمَّ تَابُوْا فَتَابَ اللهُ عَلَيْهِمْ.
আল-আসওয়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)-এর মজলিসে ছিলাম, সেখানে হুযাইফাহ (রাঃ) আসলেন এবং আমাদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে সালাম দিলেন। এরপর বললেন, তোমাদের চেয়ে উত্তম গোত্রের উপরও মুনাফিকী এসেছিল। আসওয়াদ বললেন, সুবহানাল্লাহ! অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “মুনাফিকগণ জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকবে”। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হেসে উঠলেন। হুযাইফাহ (রাঃ) মসজিদের এক কোণে গিয়ে বসলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) উঠে গেলে তাঁর শিষ্যবর্গও চলে গেলেন।এরপর হুযাইফাহ (রাঃ) আমার দিকে একটি পাথর টুকরো নিক্ষেপ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বললেন, আমি তাঁর হাসিতে বিস্মিত হলাম অথচ আমি যা বলেছি তা তিনি বুঝেছেন। এমন এক গোত্র যারা তোমাদের চেয়ে উত্তম তাদের মধ্যেও মুনাফিকী সৃষ্টি করা হয়েছিল। তারপর তাঁরা তাওবাহ করেছে এবং আল্লাহ তা‘আলা তাদের তাওবাহ গ্রহণ করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নিফাক ও তাওবার বিষয় এসেছে। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, তোমাদের চেয়ে উত্তম লোকদের মধ্যেও মুনাফিকী এসেছিল। আসওয়াদ (রহঃ) তখন মুনাফিকদের জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকার আয়াত উল্লেখ করেন। পরে হুযাইফা (রাঃ) কথাটি পরিষ্কার করেন যে, যাদের কথা তিনি বলেছেন তারা তাওবা করেছিল এবং আল্লাহ তাদের তাওবা গ্রহণ করেছেন। এই হাদিস আমাদের খুব ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দেয়। নিফাক ভয়ংকর বিষয়, কিন্তু কেউ ভুল বুঝে গেলে বা ভুল পথে চলে গেলে তার জন্য তাওবার দরজা আছে। তবে এই কথা কাউকে হালকা করে নেওয়ার সুযোগ দেয় না। বরং নিজের ঈমান, আমল ও অন্তরের অবস্থা নিয়ে সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিফাকের বিষয়টি খুব গুরুতর, তাই নিজের অন্তর নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
- ভুল হলে তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা জরুরি।
- সাহাবীগণ আয়াত ও বাস্তব ঘটনার মিল বুঝে কথা বলতেন।
- কারও অবস্থার শেষ বিচার আল্লাহর দয়া ও তাওবার ওপর নির্ভর করতে পারে।
