৬৫/১২৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬২৩ - বাহীরা সাইবা ও জাহিলি রীতি
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ বাহীরা, সাইবা, ওয়াসীলা এবং হামী-এর প্রচলন করেননি। (সূরা আল-মায়িদাহ ৫/১০৩)
জাহিলি প্রথা: বাহীরা, সাইবা, ওয়াসীলা ও হাম থেকে শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৬২৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬২৩
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ الْبَحِيْرَةُ الَّتِيْ يُمْنَعُ دَرُّهَا لِلطَّوَاغِيْتِ فَلَا يَحْلُبُهَا أَحَدٌ مِنْ النَّاسِ وَالسَّائِبَةُ كَانُوْا يُسَيِّبُوْنَهَا لِآلِهَتِهِمْ لَا يُحْمَلُ عَلَيْهَا شَيْءٌ قَالَ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ كَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ وَالْوَصِيْلَةُ النَّاقَةُ الْبِكْرُ تُبَكِّرُ فِيْ أَوَّلِ نِتَاجِ الإِبِلِ ثُمَّ تُثَنِّيْ بَعْدُ بِأُنْثَى وَكَانُوْا يُسَيِّبُوْنَهَا لِطَوَاغِيْتِهِمْ إِنْ وَصَلَتْ إِحْدَاهُمَا بِالْأُخْرَى لَيْسَ بَيْنَهُمَا ذَكَرٌ وَالْحَامِ فَحْلُ الإِبِلِ يَضْرِبُ الضِّرَابَ الْمَعْدُوْدَ فَإِذَا قَضَى ضِرَابَهُ وَدَعُوْهُ لِلطَّوَاغِيْتِ وَأَعْفَوْهُ مِنَ الْحَمْلِ فَلَمْ يُحْمَلْ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَسَمَّوْهُ الْحَامِيَو قَالَ لِيْ أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ سَمِعْتُ سَعِيْدًا قَالَ يُخْبِرُهُ بِهَذَا قَالَ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ نَحْوَهُ وَرَوَاهُ ابْنُ الْهَادِ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
الْبَحِيرَةُ বাহীরা জন্তুর স্তন প্রতিমার উদ্দেশে সংরক্ষিত থাকে কেউ তা দোহন করে না। السَّائِبَةُ সাইবা, যে জন্তু তারা তাদের উপাস্যের নামে ছেড়ে দিত এবং তা দিয়ে বোঝা বহন করা হত না। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, আমি ‘আমর ইবনু আমির খুযায়ীকে জাহান্নামের মধ্যে দেখেছি সে তার নাড়িভুঁড়ি টানছে, সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে সায়িবা প্রথা প্রথম চালু করে।وَالْوَصِيلَةُ ওয়াসীলাহ্, যে উষ্ট্রী প্রথমবারে মাদী বাচ্চা প্রসব করে এবং দ্বিতীয়বারেও মাদী বাচ্চা প্রসব করে, ঐ উষ্ট্রীকে তারা তাদের তাগূতের উদ্দেশে ছেড়ে দিত। وَالْحَامِ হাম, নর উট যা দ্বারা কয়েকবার প্রজনন কার্য নেয়া হয়, প্রজনন কার্য সমাপ্ত হলে সেটাকে তারা তাদের প্রতিমার জন্যে ছেড়ে দেয় এবং বোঝা বহন থেকে ওটাকে মুক্তি দেয়। সেটির উপর কিছু বহন করা হয় না। এটাকে তারা ‘হাম’ নামে অভিহিত করত।আমাকে আবুল ইয়ামান বলেছেন যে, শু‘আয়ব, ইমাম যুহরী (রহঃ) থেকে আমাদেরকে অবহিত করেছেন, যুহরী বলেন, আমি সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব (রহঃ) থেকে শুনেছি, তিনি তাকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছেন। সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব বলেছেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমি নবী (ﷺ) থেকে এই রকম শুনেছি। ইবনু হাদ এটা বর্ণনা করেছেন ইবনু শিহাব থেকে। আর তিনি সা‘ঈদ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে যে, আমি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাহিলি যুগের কিছু পশু-সম্পর্কিত রীতির কথা এসেছে। বাহীরা ছিল এমন জন্তু, যার দুধ প্রতিমার নামে রেখে দেওয়া হতো এবং কেউ তা দোহন করত না। সাইবা ছিল সেই জন্তু, যাকে উপাস্যের নামে ছেড়ে দেওয়া হতো; তা দিয়ে বোঝা বহন করানো হতো না। ওয়াসীলা ছিল নির্দিষ্ট ধরনের উষ্ট্রী, যাকে তাগূতের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হতো। হাম ছিল এমন নর উট, যা কয়েকবার প্রজননের পর প্রতিমার নামে মুক্ত করে দেওয়া হতো। হাদিসে আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আমর ইবনু আমির খুযায়ীকে জাহান্নামে দেখেছেন; সে-ই প্রথম সাইবা প্রথা চালু করেছিল। এই বর্ণনা শেখায়, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে ধর্মীয় মর্যাদা দিয়ে পশু ছাড়ার রীতি ভ্রান্ত। মানুষের বানানো রীতি যদি তাওহীদের বিপরীতে যায়, তা ভয়াবহ পরিণতির কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাগূত বা প্রতিমার নামে পশু ছাড়ার রীতি ইসলামী তাওহীদের বিপরীত।
- মানুষের বানানো ধর্মীয় রীতি গ্রহণের আগে তার ভিত্তি দেখা জরুরি।
- সাইবা প্রথা চালু করার ভয়াবহ পরিণতি হাদিসে উল্লেখ হয়েছে।
- পশু বা সম্পদ ব্যবহারে আল্লাহর নির্দেশই মূল মানদণ্ড।
