৬৫/১২৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬২৪ - সাইবা চালুর ভয়াবহ পরিণতি
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ বাহীরা, সাইবা, ওয়াসীলা এবং হামী-এর প্রচলন করেননি। (সূরা আল-মায়িদাহ ৫/১০৩)
সাইবা প্রথা: ভ্রান্ত রীতি চালুর ভয়াবহ শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৬২৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬২৪
مُحَمَّدُ بْنُ أَبِيْ يَعْقُوْبَ أَبُوْ عَبْدِ اللهِ الْكَرْمَانِيُّ حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا وَرَأَيْتُ عَمْرًا يَجُرُّ قُصْبَهُ وَهْوَ أَوَّلُ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি জাহান্নামকে দেখেছি যে, তার একাংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে বা আক্রমণ করছে, ‘আমরকে দেখেছি সে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে হাঁটছে, সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে ‘সায়ীবা’র রেওয়াজ চালু করেছিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জাহান্নামের একটি ভয়ংকর দৃশ্যের কথা বলেছেন। তিনি জানান, তিনি জাহান্নামকে দেখেছেন, তার এক অংশ অন্য অংশকে ভেঙে ফেলছে বা আক্রমণ করছে। তিনি আমরকে দেখেছেন, সে নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে হাঁটছে। হাদিসে বলা হয়েছে, সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে সাইবা প্রথা চালু করেছিল। সাইবা ছিল জাহিলি যুগের একটি ভ্রান্ত রীতি, যেখানে পশুকে বিশেষভাবে ছেড়ে দেওয়া হতো। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর দ্বীনের বাইরে মানুষের বানানো ভ্রান্ত ধর্মীয় প্রথা চালু করা গুরুতর ব্যাপার। কেউ যদি ভুল কাজকে রীতি বানায় এবং মানুষকে তাতে চালায়, তার ক্ষতি শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তাই মুসলিমের উচিত তাওহীদ রক্ষা করা, কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা এবং ধর্মের নামে নতুন ভ্রান্ত রীতি তৈরি না করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভ্রান্ত ধর্মীয় প্রথা চালু করা গুরুতর পাপের কারণ হতে পারে।
- সাইবা প্রথা জাহিলি যুগের ভুল রীতির একটি উদাহরণ।
- মানুষের বানানো রীতির চেয়ে আল্লাহর নির্দেশকে মানা জরুরি।
- ধর্মের নামে কুসংস্কার ছড়ানো থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
