৬৫/১৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬২৯ - শিরকই মহা জুলুম
আল্লাহর বাণীঃ এবং নিজেদের ঈমানকে শিরকের সঙ্গে মিশ্রিত করেনি। (সূরা আল-আনআম ৬/৮২)
শিরক মহা জুলুম: ঈমানকে অশুদ্ধ করা থেকে সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ৪৬২৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬২৯
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ ﴾وَلَمْ يَلْبِسُوْآ إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ﴿ قَالَ أَصْحَابُهُ وَأَيُّنَا لَمْ يَظْلِمْ فَنَزَلَتْ {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ﴿.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন, “যুল্ম করেনি আমাদের মধ্যে এমন কোন্ ব্যক্তি আছে?”এরপর অবতীর্ণ হল إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ “নিশ্চয় শিরক মহা যুল্ম” (সূরা লুক্বমান ৩১/১৩)।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি আয়াত নাজিল হওয়ার পর সাহাবীদের চিন্তার কথা এসেছে। যখন আয়াত নাজিল হলো, যারা তাদের ঈমানকে জুলুমের সঙ্গে মেশায়নি, তখন সাহাবীরা বললেন, আমাদের মধ্যে কে আছে যে জুলুম করেনি? তাঁদের মনে হলো, সাধারণ ভুল বা অন্যায়ও হয়তো এখানে ধরা হচ্ছে। এরপর আরেক আয়াত নাজিল হয়—নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম। এর মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হয় যে, এখানে বড় অর্থে শিরকের কথাই বোঝানো হয়েছে। এই হাদিস তাওহীদের গুরুত্ব শেখায়। ঈমানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। মানুষ ভুল করতে পারে, তাওবা করতে পারে; কিন্তু শিরক এমন বড় জুলুম, যা ঈমানের মূল ভিত্তিকে আঘাত করে। তাই মুমিনের জন্য জরুরি হলো আল্লাহর একত্বকে পরিষ্কারভাবে মানা এবং শিরকের সব পথ থেকে সতর্ক থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিরককে হাদিসে মহা জুলুম হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাহাবীরা আয়াত শুনে নিজেদের ব্যাপারে ভয় ও চিন্তা করেছিলেন।
- তাওহীদ ঈমানের মূল ভিত্তি; তা রক্ষা করা জরুরি।
- কুরআনের একটি আয়াত অন্য আয়াত দিয়ে ব্যাখ্যা হতে পারে।
