৬৫/১৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৩০ - ইউনুস আ. সম্পর্কে আদবের শিক্ষা
আল্লাহর বাণীঃ ইউনুস ও লুতকেও হিদায়াত দান করেছিলাম। আমি প্রত্যেককেই সারা জাহানের উপর ফজিলত দান করেছিলাম। (সূরা আল-আনআম ৬/৮৬)
নবীদের মর্যাদা: ইউনুস ইবনু মাত্তা সম্পর্কে আদব
সহীহ বুখারী : ৪৬৩০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৩০
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا يَنْبَغِيْ لِعَبْدٍ أَنْ يَقُوْلَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম” এমন কথা বলা কারও জন্যে শোভনীয় নয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো বান্দার জন্য এ কথা বলা শোভনীয় নয় যে, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম।” এখানে নবীদের প্রতি আদবের শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহ যাঁদের নবী করেছেন, তাঁদের মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া। তাই তাঁদের নিয়ে এমন তুলনা করা উচিত নয়, যাতে কোনো নবীর সম্মান কমে যায়। হাদিসে নির্দিষ্টভাবে ইউনুস (আঃ)-এর নাম এসেছে। এর মানে হলো, নবীদের ব্যাপারে কথা বলার সময় বিনয়, সম্মান এবং সতর্কতা দরকার। মানুষ নিজের অবস্থান বা অন্য কারও মর্যাদা নিয়ে অতিরিক্ত কথা বলতে পারে; কিন্তু নবীদের বিষয়ে আমাদের ভাষা হতে হবে সংযত। এই হাদিস শেখায়, নবীদের সম্মান রক্ষা করা ঈমানী আদবের অংশ, আর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা বা কোনো নবীকে নিচু করে দেখানো ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীদের মর্যাদা নিয়ে কথা বলার সময় আদব রক্ষা করতে হবে।
- ইউনুস (আঃ)-কে ছোট করে দেখায় এমন কথা বলা শোভনীয় নয়।
- নিজেকে কোনো নবীর চেয়ে উত্তম বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- নবীদের সম্মান করা ঈমানী আচরণের অংশ।
