৬৫/১৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৩১ - নবীদের তুলনায় সংযমের শিক্ষা
আল্লাহর বাণীঃ ইউনুস ও লুতকেও হিদায়াত দান করেছিলাম। আমি প্রত্যেককেই সারা জাহানের উপর ফজিলত দান করেছিলাম। (সূরা আল-আনআম ৬/৮৬)
নবীদের আদব: ইউনুস আ.-কে ছোট করে কথা নয়
সহীহ বুখারী : ৪৬৩১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৩১
آدَمُ بْنُ أَبِيْ إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ قَالَ سَمِعْتُ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا يَنْبَغِيْ لِعَبْدٍ أَنْ يَقُوْلَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা (আঃ) থেকে উত্তম”, এমন কথা বলা কারো জন্য শোভনীয় নয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম”—এমন কথা বলা কারও জন্য শোভনীয় নয়। এখানে বক্তব্যের মূল দিক হলো নবীদের মর্যাদার প্রতি সম্মান রাখা। আল্লাহর নবীরা মানুষের শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা। তাঁদের সম্পর্কে এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে কোনো নবীর মান কমে যায় বা মানুষ ভুল ধারণা পায়। হাদিসটি আমাদের কথার সীমা শেখায়। ধর্মীয় আলোচনায় আবেগ বা পক্ষপাত থেকে তুলনা করা সহজ, কিন্তু নবীজি নিজেই এ ধরনের বাক্য থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তাই মুসলিমের উচিত ইউনুস (আঃ) সহ সব নবীর নাম সম্মানের সঙ্গে নেওয়া, তাঁদের অবস্থান নিয়ে অযথা তুলনা না করা এবং নিজের ভাষায় বিনয় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সব নবীর প্রতি সম্মান রাখা মুসলিমের দায়িত্ব।
- ইউনুস (আঃ)-কে কম মর্যাদার মনে করায় এমন কথা বলা ঠিক নয়।
- ধর্মীয় কথাবার্তায় আবেগ নয়, আদব ও সংযম দরকার।
- নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা মুমিনের ভাষা নয়।
