৬৫/১৪০. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৩৮ - নবীদের মধ্যে তুলনায় আদব

পরিচ্ছেদ নাই।

নবীদের মর্যাদা: মূসা আ. সম্পর্কে নবীজির সংযমের শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৩৮

مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُوْدِ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ قَدْ لُطِمَ وَجْهُهُ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِكَ مِنَ الْأَنْصَارِ لَطَمَ فِيْ وَجْهِيْ قَالَ ادْعُوْهُ فَدَعَوْهُ قَالَ لِمَ لَطَمْتَ وَجْهَهُ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ مَرَرْتُ بِالْيَهُوْدِ فَسَمِعْتُهُ يَقُوْلُ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوْسَى عَلَى الْبَشَرِ فَقُلْتُ وَعَلَى مُحَمَّدٍ وَأَخَذَتْنِيْ غَضْبَةٌ فَلَطَمْتُهُ قَالَ لَا تُخَيِّرُوْنِيْ مِنْ بَيْنِ الْأَنْبِيَاءِ فَإِنَّ النَّاسَ يَصْعَقُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَكُوْنُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيْقُ فَإِذَا أَنَا بِمُوْسَى آخِذٌ بِقَائِمَةٍ مِنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَلَا أَدْرِيْ أَفَاقَ قَبْلِيْ أَمْ جُزِيَ بِصَعْقَةِ الطُّوْرِ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ইয়াহূদী নবী (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হল। তার মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত খেয়ে সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার এক আনসারী সাহাবী আমার মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত করেছে। তিনি বললেন, তাকে ডেকে আন। তারা ওকে ডেকে আনল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “একে চপেটাঘাত করেছ কেন?” সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি এই ইয়াহূদীর পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তখন শুনলাম সে বলছে তাঁরই শপথ যিনি মূসা (আঃ)-কে মানবজাতির উপর মনোনীত করেছেন, আমি বললাম মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপরও মনোনীত করেছেন কি? এরপর আমার রাগ চেপে গিয়েছিল, তাই তাকে চপেটাঘাত করেছি।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আমাকে অন্যান্য নবীর থেকে উত্তম বলো না। কারণ কেয়ামত দিবসে সব মানুষই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়বে, সর্বপ্রথম আমিই জ্ঞান ফিরে পাব। তিনি বলেন, তখন আমি দেখব যে, মূসা (আঃ) আরশের খুঁটি ধরে আছেন, আমি বুঝতে পারব না যে, তিনি কি আমার পূর্বে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন নাকি তূর পর্বতের জ্ঞানশূন্যতার পুরস্কার হিসেবে তাঁকে পুনরায় জ্ঞানশূন্য করা হয়নি।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৩৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ইয়াহুদি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে অভিযোগ করে যে, এক আনসারী সাহাবী তার মুখে চড় মেরেছে। কারণ সে বলেছিল, সেই সত্তার শপথ, যিনি মূসা (আঃ)-কে মানবজাতির ওপর মনোনীত করেছেন। সাহাবী রাগ করে প্রশ্ন করেন, মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপরও কি? এরপর তিনি তাকে আঘাত করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীকে ডেকে কারণ জানতে চান এবং বলেন, তোমরা আমাকে অন্যান্য নবীর থেকে উত্তম বলো না। তারপর তিনি কিয়ামতের একটি দৃশ্য বলেন—সব মানুষ জ্ঞানশূন্য হবে, তিনি প্রথম জ্ঞান ফিরে পাবেন, আর মূসা (আঃ)-কে আরশের খুঁটি ধরে থাকতে দেখবেন। তিনি জানবেন না, মূসা (আঃ) আগে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন, নাকি তূরের ঘটনার কারণে তাঁকে আর জ্ঞানশূন্য করা হয়নি। এই হাদিস নবীদের মর্যাদা, সংযত ভাষা এবং রাগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীদের বিষয়ে কথা বলার সময় সংযম ও আদব দরকার।
  • রাগের কারণে কাউকে আঘাত করা ন্যায়সংগত আচরণ নয়।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অভিযোগ শুনে কারণ জানতে চেয়েছেন।
  • মূসা (আঃ)-এর মর্যাদা সম্পর্কে নবীজি সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন