৬৫/১৬৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৭০ - মুনাফিকের জানাজা নিয়ে আয়াত

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللهُ لَهُمْ}. আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা নাই করেন (উভয়ই সমান)। যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা তো কুফরী করেছে আল্লাহর সঙ্গে এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গেও। আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দান করেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৮০)

মুনাফিকের জানাজা: নবী صلى الله عليه وسلم, উমর (রাঃ) ও আয়াতের শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৭০

عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ أَبِيْ أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيْصَهُ يُكَفِّنُ فِيْهِ أَبَاهُ فَأَعْطَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِثَوْبِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ تُصَلِّيْ عَلَيْهِ وَقَدْ نَهَاكَ رَبُّكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَيْهِفَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللهُ فَقَالَ ﴾اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً} وَسَأَزِيْدُهُ عَلَى السَّبْعِيْنَ قَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَأَنْزَلَ اللهُ ﴾وَلَا تُصَلِّ عَلٰٓى أَحَدٍ مِّنْهُمْ مَّاتَ أَبَدًا وَّلَا تَقُمْ عَلٰى قَبْرِهٰ﴿.

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে আসলেন এবং তার পিতাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জামাটি দিয়ে কাফন দেবার আবেদন করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জামা প্রদান করলেন, এরপর তিনি জানাযার সালাত আদায়ের জন্য নবী (ﷺ)-এর কাছে আবেদন জানালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানাযার সালাত পড়ানোর জন্য (বসা থেকে) উঠে দাঁড়ালেন, ইত্যবসরে ‘উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাপড় টেনে ধরে আবেদন করলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি কি তার জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ আপনার রব আপনাকে তার জন্য দোয়া করতে নিষেধ করেছেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে আমাকে (দোয়া) করা বা না করার সুযোগ দিয়েছেন। আর আল্লাহ তো ইরশাদ করেছেন, “তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর; যদি সত্তরবারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর তবু আমি তাদের ক্ষমা করব না”। সুতরাং আমি তার জন্য সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করব।‘উমর (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক, শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন, এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। “তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি কক্ষণো তাদের জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তাদের কবরের কাছেও দাঁড়াবেন না।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৭০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবন উবাই মারা যাওয়ার পর তার ছেলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন। তিনি পিতার কাফনের জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জামা চান, নবী (صلى الله عليه وسلم) তা দেন। পরে জানাজার সালাতের আবেদন করা হলে নবী (صلى الله عليه وسلم) দাঁড়ান। তখন উমর (রাঃ) তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সে মুনাফিক এবং তার জন্য দোয়া নিষেধ করা হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আল্লাহ তাঁকে করা বা না করার সুযোগ দিয়েছেন, আর তিনি সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা চাইবেন। এরপর তিনি জানাজা পড়ান। তারপর আয়াত নাযিল হয়—তাদের কেউ মারা গেলে জানাজার সালাত আদায় করবেন না এবং কবরের কাছে দাঁড়াবেন না। হাদিসটি ওহীর নির্দেশ আসার ধাপে ধাপে স্পষ্ট হওয়া দেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم) আবদুল্লাহ ইবন উবাইয়ের ছেলেকে নিজের জামা দিয়েছিলেন।
  • উমর (রাঃ) মুনাফিকের জানাজা বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে প্রশ্ন করেন।
  • শেষে আয়াত নাযিল হয়ে মুনাফিকদের জানাজা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্ট করে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন