৬৫/১৬৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৭২ - মুনাফিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার সীমা
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: মুনাফিকদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার জন্য আপনি জানাজার সালাত কখনও পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না। (সূরা বারাআত ৯/৮৪)
মুনাফিকদের জানাজা ও ক্ষমা প্রার্থনার সীমা
সহীহ বুখারী : ৪৬৭২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৭২
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَأَعْطَاهُ قَمِيْصَهُ وَأَمَرَهُ أَنْ يُكَفِّنَهُ فِيْهِ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّيْ عَلَيْهِ فَأَخَذَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِثَوْبِهِ فَقَالَ تُصَلِّيْ عَلَيْهِ وَهُوَ مُنَافِقٌ وَقَدْ نَهَاكَ اللهُ أَنْ تَسْتَغْفِرَ لَهُمْ قَالَ إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللهُ أَوْ أَخْبَرَنِي اللهُ فَقَالَ ﴾اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً فَلَنْ يَّغْفِرَ اللهُ﴿ فَقَالَ سَأَزِيْدُهُ عَلَى سَبْعِيْنَ قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَصَلَّيْنَا مَعَهُ ثُمَّ أَنْزَلَ اللهُ عَلَيْهِ ﴾وَلَا تُصَلِّ عَلٰٓى أَحَدٍ مِّنْهُمْ مَّاتَ أَبَدًا وَّلَا تَقُمْ عَلٰى قَبْرِهٰإِنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٰ وَمَاتُوْا وَهُمْ فَاسِقُوْنَ﴿.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন (মুনাফিক) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলেন। তিনি [নবী (ﷺ)] তার নিজ জামাটি তাকে দিয়ে দিলেন এবং এর দ্বারা তার পিতার কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তখন ‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাপড় ধরে নিবেদন করলেন, [হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)] আপনি কি তার (‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই)-এর জানাযাহ্র সালাত আদায় করবেন? সে তো মুনাফিক, অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাদের (মুনাফিকদের) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে আপনাকে নিষেধ করেছেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, (হে ‘উমর!) আল্লাহ আমাকে করা বা না করার অবকাশ দিয়েছেন, অথবা বলেছেন, আল্লাহ আমাকে অবহিত করেছেন এবং বলেছেন, “আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা নাই করেন (উভয়ই সমান)। যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না।” (সূরা বারাআত ৯/৮০) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি সত্তরবারের চেয়েও অধিকবার ক্ষমা প্রার্থনা করব। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযাহ্র সালাত আদায় করলেন। আমরাও তার সঙ্গে জানাযাহ্র সালাত আদায় করলাম।এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হল, “তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি তার জানাযাহ্র সালাত কখনও আদায় করবেন না এবং তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহ ও তার রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং ফাসিক অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেছে” (সূরা বারাআত ৯/৮৪)।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একই ঘটনার আরেকটি বর্ণনা এসেছে। মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে তার ছেলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের জামা দিয়ে তাকে কাফনের ব্যবস্থা করতে বলেন। এরপর তিনি জানাজার জন্য দাঁড়ান। উমর (রাঃ) কাপড় ধরে বলেন, সে তো মুনাফিক, আর আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে নিষেধ করেছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) আয়াতের কথা উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ তাঁকে করা বা না করার অবকাশ দিয়েছেন, এবং তিনি সত্তরবারের বেশি ক্ষমা চাইবেন। তারপর তিনি জানাজা আদায় করেন, সাহাবিরাও সঙ্গে পড়েন। এরপর নতুন আয়াত নাযিল হয়, যাতে তাদের জানাজা পড়া ও কবরের পাশে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়। এই হাদিস ওহীর নির্দেশকে মানার গুরুত্ব বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের কাফনের জন্য নিজের জামা দেন।
- উমর (রাঃ) মুনাফিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি তুলে ধরেন।
- পরবর্তী আয়াত জানাজা ও কবরের পাশে দাঁড়ানোর নিষেধ স্পষ্ট করে।
